“মমতার এবার বিশ্রাম নেওয়ার সময়, ১৮০ আসনেই জিতছে বিজেপি!” ভোট মিটতেই শুভেন্দুর মেগা দাবি

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট শেষে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেছেন যে, এবার রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তাঁর মতে, বিজেপি ১৮০-র বেশি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল।
পালবদলের জোরালো দাবি
ভোট মিটতেই শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সরাসরি দাবি করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন বিশ্রাম নেওয়ার সময় এসেছে। শুভেন্দুর মতে, ভবানীপুর কেন্দ্রে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হবেন। ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি এবং বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার প্রয়োগকে তিনি পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, শাসক দল পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভীতির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন।
পাল্টা আক্রমণে তৃণমূল
শুভেন্দুর এই দাবির বিপরীতে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়া-ফুল শিবিরের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর খান দাবি করেছেন, বাংলায় গুজরাট বা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি চলবে না। তৃণমূল প্রার্থীদের দাবি, ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিজেপি আসলে পরাজয়ের আগাম অজুহাত তৈরি করছে। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, রাজ্যের মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দিয়েছেন এবং তাঁরা ২০০ শতাংশ জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত।
দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণের হার ৯২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়া রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এই বিপুল পরিমাণ ভোটদান সাধারণত প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়, যা শুভেন্দু অধিকারীর দাবির পালে হাওয়া দিচ্ছে। তবে প্রকৃত ফলাফল এবং জল্পনার অবসান ঘটবে আগামী দিনে ভোট গণনার মাধ্যমেই।
এক ঝলকে
- বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী দল ১৮০-র বেশি আসন পেয়ে সরকার গড়বে।
- ভবানীপুর কেন্দ্রে তিনি নিজে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
- দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটদানের হার ৯২ শতাংশ ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়েছে।
- তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, বিজেপি পরাজয়ের ভয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।
