মমতার জোট-আহ্বানে মুখ খুললেন সেলিম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক জোট-আহ্বানকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপি বিরোধী শিবিরের শক্তি বাড়াতে বাম ও অতিবাম দলগুলোর প্রতি প্রকাশ্যেই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরই সাধারণ মানুষের প্রধান শত্রু। তাই আদর্শগত বিভেদ সরিয়ে রেখে সমস্ত জাতীয় দল ও বামপন্থী সংগঠনগুলোকে এক ছাতার তলায় আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
মমতার আহ্বান ও রাজনৈতিক কৌশল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আহ্বানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিজেপিকে কোণঠাসা করতে তিনি যে কোনও বামপন্থী বা অতিবামপন্থী শক্তির সঙ্গে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করছেন না, তা এবার আরও স্পষ্ট হলো। মমতার মতে, এককভাবে লড়াই করার চেয়ে সম্মিলিত শক্তি দিয়ে বিজেপিকে আটকানোই এখন সময়ের দাবি। এই জোট প্রক্রিয়ায় তিনি কোনও নির্দিষ্ট দলের নাম না নিলেও, যে কোনও ‘বিজেপি বিরোধী’ মুখকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সেলিমের কাব্যিক খোঁচা
তৃণমূল নেত্রীর এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। জোটের প্রস্তাবে সরাসরি সম্মতি বা আসাম্মতি না জানিয়ে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে তৃণমূল নেত্রীকে বিঁধেছেন। সেলিম বলেন, “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো।” সেলিমের এই মন্তব্যে পরোক্ষভাবে তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
মমতা ও সেলিমের এই বাগযুদ্ধ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। একদিকে তৃণমূল যখন বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিচ্ছে, অন্যদিকে বাম নেতৃত্ব তৃণমূলের ‘স্বচ্ছতা’ নিয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থানে অনড়। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে বিজেপি বিরোধী ভোট এককাট্টা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যদি বাম-তৃণমূলের এই বিরোধ বজায় থাকে, তবে তার প্রত্যক্ষ সুবিধা বিজেপি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আগামী দিনে এই চাপানউতোর বাংলার নির্বাচনী সমীকরণে বড় কোনও বদল আনে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
