মমতার জোট-বার্তায় চরম বিদ্রুপ শুভেন্দুর, অপ্রাসঙ্গিক লোক নিয়ে কথা বলব না!

রাজ্যে পালাবদলের আবহে যখন বিজেপির নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, ঠিক তখনই বিরোধী শিবিরের জোট-রাজনীতি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তীর মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে রুখতে বাম ও অতিবাম দলগুলোর সঙ্গে হাত মেলানোর যে ডাক দিয়েছেন, তাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতার এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সরাসরি ‘রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাজনৈতিক গুরুত্বহীনতার তোপ ও শুভেন্দুর অবস্থান
শনিবার শপথগ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দেন যে, তৃণমূল নেত্রীর এই জোট-বার্তা নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই তিনি বলেন, “আমি একটা কথাই বলব, তিনি রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক। অপ্রাসঙ্গিক লোকেদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাই না।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, নতুন সরকার রাজ্যের প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে মমতাকে আর কোনো রাজনৈতিক ওজন দিতে রাজি নয়। বরং তাঁকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়ে বিজেপি এখন তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক এজেন্ডা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে।
সংঘাতের তীব্রতা ও আগামীর প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘অপ্রাসঙ্গিক’ তকমা আসলে তৃণমূল নেত্রীর ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কৌশল। নির্বাচনের পর রাজ্যের শাসনক্ষমতা হারানোর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে বামেদের সাহায্য চাইছেন, তখন শুভেন্দুর এই কড়া প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। এই বাগযুদ্ধের ফলে আগামী দিনে নবান্ন ও কালীঘাটের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে বাম-তৃণমূলের সম্ভাব্য সমীকরণ এবং অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপির এই কড়া অবস্থান বাংলার রাজনীতিকে এক চরম মেরুকরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
