মমতার দুর্গে গেরুয়া ঝড়, পশ্চিমবঙ্গের মসনদে এবার শুভেন্দু অধিকারী! – এবেলা

মমতার দুর্গে গেরুয়া ঝড়, পশ্চিমবঙ্গের মসনদে এবার শুভেন্দু অধিকারী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর রাজ্য রাজনীতির দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা তথা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নবান্ন দখলের এই লড়াইয়ে তৃণমূলের দুর্গ ধ্বসিয়ে বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের কারিগর হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর রণকৌশলকেই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিল দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

তৃণমূলের প্রাক্তন সেকেন্ড-ইন-কমান্ড থেকে বাংলার মসনদে

২০২০ সাল পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান ও অভ্যন্তরীণ মতভেদের জেরে ২০২১ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। গত পাঁচ বছরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর লাগাতার আক্রমণ এবং আন্দোলনের ফলে মেদিনীপুরসহ জঙ্গলমহলের জেলাগুলোতে বিজেপির ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত হয়েছে। মূলত তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর ভর করেই বিজেপি তিন থেকে ৭৭ এবং শেষ পর্যন্ত নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

বিজেপির স্বপ্নপূরণ ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা

শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশা—এই তিন প্রতিবেশী রাজ্যে আধিপত্য বিস্তারের দীর্ঘকালীন স্বপ্ন পূরণ করল। বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং রাজ্যের প্রতিটি জেলার নিচুতলার রাজনীতির নাড়িনক্ষত্র জানা থাকায় সরকারের নীতি নির্ধারণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে জঙ্গলমহল ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ মোকাবিলা করা তাঁর নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এক ঝলকে

  • পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন অমিত শাহ।
  • ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে সরকার গড়ছে বিজেপি।
  • ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক লড়াই শুভেন্দুকে জননেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
  • বিরোধী দলনেতা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *