মমতার বড় ধাক্কা! কেন্দ্রীয় কর্মীদের দিয়েই হবে ভোট গণনা, সুপ্রিম কোর্টেও খারিজ তৃণমূলের আর্জি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া বিশেষ সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভোট গণনার সুপারভাইজার হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের নিয়োগের যে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্ট দিয়েছিল, তার ওপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক দল।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও আইনি লড়াই
হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করলেও শেষরক্ষা হয়নি। মূলত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেই নির্বাচন কমিশন এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা শুক্রবার বহাল রেখেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টও সেই রায়ে হস্তক্ষেপ না করায় এখন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হচ্ছে।
প্রভাব ও প্রশাসনিক গুরুত্ব
এই নির্দেশের ফলে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল গণনার দিন প্রতিটি টেবিলের তদারকিতে থাকবেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা। পর্যবেক্ষকদের মতে, গণনায় কারচুপি বা স্থানীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এড়াতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। এর ফলে একদিকে যেমন ভোট গণনার নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে রাজ্য প্রশাসনের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তবে আইনি লড়াইয়ে হার মানায় তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াল।
এক ঝলকে
- ভোট গণনার সুপারভাইজার হিসেবে কেবল কেন্দ্রীয় বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীরাই নিযুক্ত থাকবেন।
- কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ।
- তৃণমূল কংগ্রেসের করা আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
- গণনার দিন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে।
