মমতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২৭ বছর ধরে জমি দখলের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ বৃদ্ধা – এবেলা

মমতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২৭ বছর ধরে জমি দখলের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ বৃদ্ধা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই এবার পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে সামনে আসতে শুরু করেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রাখা এবং প্রতিবাদ করায় লাগাতার অত্যাচারের প্রতিকার চেয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হলেন এক ক্যানসার আক্রান্ত বৃদ্ধা। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা এই মারাত্মক অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

৮০ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা রঞ্জনা হাজরা নামের ওই বৃদ্ধার অভিযোগ, ১৯৯৯ সাল থেকে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল করে রেখেছেন অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দখল করা জায়গায় প্রথমে ব্যবসা এবং পরে পাকাপাকিভাবে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি ২০১৭ সালেও ১২-১৩ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট জবরদখল করে নতুন ব্যবসা শুরুর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। বৃদ্ধার দাবি, নিজের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের প্রতিবাদ করায় তাঁর উপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে বহুবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোনও আইনি সহায়তা বা সুরাহা তিনি পাননি।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেই সুযোগেই বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন রঞ্জনা দেবী। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং দ্রুত সমাধানের সুস্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন। এই ঘটনার জেরে পূর্বতন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে। অতীতে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধীরা যে প্রশ্ন তুলেছিল, এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হলে সেই পুরনো বিতর্কগুলি নতুন করে মান্যতা পেতে পারে। এর ফলে প্রশাসনের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা যেমন ফিরবে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *