মমতার সঙ্গ ছাড়ছেন একের পর এক প্রবীণ নেতা! এবার পদত্যাগী সদ্য নিযুক্ত নরেন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি নতুন কমিটিতে অব্যাহত ভাঙন। প্রদীপ ও রবীন্দ্রনাথের পর এবার পশ্চিম বর্ধমানের জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সদ্য নিযুক্ত নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের অগ্রাধিকার দিয়ে গঠিত এই কমিটি থেকে একের পর এক নেতার সরে দাঁড়ানো ঘাসফুল শিবিরের সাংগঠনিক ঐক্যের সামনে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরেছে।
ইস্তফার কারণ ও সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা
তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে লেখা ইস্তফাপত্রে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এই পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ একটি বড় ত্রুটিও প্রকাশ্যে এসেছে। নরেন্দ্রনাথ চিঠিতে জানিয়েছেন যে, জেলা সভাপতির মতো এত গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর মনোনয়নের খবরটি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই প্রথম জানতে পারেন। সরাসরি যোগাযোগের এই অভাব দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে জেলা স্তরের নেতাদের সমন্বয়হীনতা এবং দূরত্বের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজ্যে পালাবদলের পরপরই পুরনো সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে দলের রাশ নতুন করে সাজাতে চেয়েছিলেন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ সুপ্রিমো। কিন্তু সেই নবগঠিত কমিটি থেকে অভিজ্ঞ ও মমতাপন্থী বলে পরিচিত নেতাদের এমন ধারাবাহিক পদত্যাগ প্রমাণ করছে, অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতিতে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন না। এই প্রবণতা অবিলম্বে রুখতে না পারলে পশ্চিম বর্ধমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে গিয়ে তা বিরোধী শিবিরকে বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা এনে দেবে।
