মমতার ১৫ বছর কি বাংলার অন্ধকার যুগ? তোষণের রাজনীতি নিয়ে শুভেন্দুর তীব্র আক্রমণে তপ্ত রাজপথ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার লড়াইয়ের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত ১৫ বছরের শাসনকালকে সরাসরি ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার এক নির্বাচনী সভা থেকে তিনি দাবি করেন, গত দেড় দশকে উন্নয়নের বদলে কেবল সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং একপাক্ষিক তোষণই ছিল তৃণমূল সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। শুভেন্দুর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
তোষণ ও মেরুকরণের অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সাম্প্রদায়িক পক্ষপাতিত্ব গেঁথে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করতে গিয়ে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে বিসর্জন দিয়েছে শাসকদল। সাধারণ মানুষের করের টাকা উন্নয়নের কাজে ব্যয় না করে রাজনৈতিক স্বার্থে তোষণের পিছনে খরচ করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। বিরোধী দলনেতার মতে, এই দীর্ঘ সময়ে রাজ্যের প্রকৃত বিকাশ থমকে গিয়েছে এবং বিপন্ন হয়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা।
নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর এই লড়াই এখন আর কেবল উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি আত্মপরিচয় ও মেরুকরণের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব আশা করছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবং তোষণের অভিযোগ ভোটারদের মনে বড়সড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের মানবিক প্রকল্পগুলোর ওপর ভরসা রাখলেও শুভেন্দুর এই কড়া আক্রমণ লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শেষ দফার আগে এই বাগযুদ্ধ ভোটারদের মেরুকরণে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনকালকে ‘অন্ধকার যুগ’ বলে আখ্যা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
- সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও একপাক্ষিক তোষণের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
- শুভেন্দুর দাবি, উন্নয়নের বদলে কেবল ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা করতেই ব্যস্ত ছিল তৃণমূল সরকার।
- ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে এই মেরুকরণ ও তোষণের অভিযোগই প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
