মরক্কোর গুহায় সাত লক্ষ বছরের প্রাচীন জীবাশ্ম, মিলল মানব বিবর্তনের নতুন যোগসূত্র
মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা শহরের ‘গ্রোতো আ হোমিনিদে’ গুহায় খননকার্য চালিয়ে প্রায় ৭ লক্ষ ৭৩ হাজার বছরের পুরনো মানব জীবাশ্ম উদ্ধার করেছেন বিজ্ঞানীরা। দুই জন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক শিশুর চোয়াল, দাঁত এবং ঊরুর হাড়ের এই আবিষ্কার মানব বিবর্তনের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গবেষকদের মতে, এই জীবাশ্মগুলো আধুনিক মানুষ বা হোমো স্যাপিয়েন্স, নিয়ানডারথাল এবং ডেনিসোভানস—এই তিন প্রজাতির সাধারণ পূর্বসূরির অত্যন্ত নিকটবর্তী হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত হাড় ও দাঁতে আদিম এবং আধুনিক উভয় মানব প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। ধারণা করা হচ্ছে, ১৯ লক্ষ বছর আগে আফ্রিকায় বসবাসকারী ‘হোমো ইরেকটাস’-এর বিবর্তিত রূপ এই প্রজাতিটি। এই আবিষ্কার আফ্রিকার মানব ইতিহাসের সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে, যা দীর্ঘকাল বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা ছিল। বিশেষত, স্পেনে পাওয়া ‘হোমো অ্যান্টিসেসার’ প্রজাতির সঙ্গে এই জীবাশ্মের গঠনগত মিল উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইউরোপের প্রাচীন যোগসূত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে।
প্যালিওঅ্যানথ্রোপলজিস্ট জাঁ জাক হুবলাঁ জানান, এই প্রজাতিটিই হয়তো সেই মূল ধারা যেখান থেকে পরবর্তীকালে বিভিন্ন মানব প্রজাতির উদ্ভব হয়েছিল। গুহায় প্রাপ্ত ঊরুর হাড়ে হায়নার কামড়ের চিহ্ন থেকে তাদের জীবনসংগ্রাম ও শিকারি দক্ষতার প্রমাণও মিলেছে। এই গবেষণাটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক মানবের বিবর্তনে উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিন ভিন্ন প্রজাতির মানবের একই উৎস বা ‘কমন অ্যানসেস্টর’ থাকার সম্ভাবনা এখন আরও জোরালো হলো।

