মরদেহকে সাজিয়ে লিপস্টিক পরিয়ে যত্ন! ইন্দোনেশিয়ার এই গ্রামে মৃত্যুর পরও তারা ‘জীবিত’, জানুন রহস্য – এবেলা

মরদেহকে সাজিয়ে লিপস্টিক পরিয়ে যত্ন! ইন্দোনেশিয়ার এই গ্রামে মৃত্যুর পরও তারা ‘জীবিত’, জানুন রহস্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পৃথিবীতে বহু দেশ, বহু অদ্ভুত রীতির প্রচলন রয়েছে। প্রিয়জন মারা গেলে আমাদের চেনা রীতি অনুযায়ী দাহ বা কবর দেওয়া হয়। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার ‘তোরাজা’ (Toraja) গ্রামে মৃত্যু মানেই শেষ নয়। এখানকার মানুষ মৃত্যুর পরও মৃতদেহকে পরম যত্নে বছরের পর বছর নিজের বাড়িতেই রেখে দেন। এমনকি তাদের সাথে কথা বলেন, খাওয়ান এবং সাজিয়ে গুছিয়ে রাখেন।

মৃতদের শহর: তোরাজা

ইন্দোনেশিয়ার এই প্রত্যন্ত গ্রামে কেউ মারা গেলে তাকে তৎক্ষণাৎ শ্মশান বা কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় না। বিশেষ কিছু ভেষজ ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে মৃতদেহকে মমি করে বাড়িতেই রাখা হয়। মৃত ব্যক্তি যেন বাড়িতেই জীবিত আছেন, এই ভাবনায় তার সাথে কথা বলা হয় এবং সময়মতো খাবার দেওয়া হয়। এমনকি মৃত ব্যক্তি যদি ধূমপানে অভ্যস্ত হন, তবে তার মুখে সিগারেটও ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বছরের বিশেষ সময়ে মৃতদের সাজগোজ!

এখানে প্রতি বছর আগস্ট মাসে ‘মানেইনে’ (Ma’nene) নামে একটি বিশেষ উৎসব পালন করা হয়। এই উৎসবের দিনগুলোতে মৃতদেহগুলোকে কবর থেকে বা সমাধি থেকে তুলে আনা হয়। এরপর শুরু হয় মৃতদেহের সেবা:

  • পরিষ্কার ও নতুন পোশাক: মৃতদেহগুলোকে যত্ন করে পরিষ্কার করা হয় এবং পরানো হয় নতুন নতুন আধুনিক সব পোশাক।
  • মেকআপ: মৃতদেহের মুখে পাউডার লাগানো হয়, ঠোঁটে দেওয়া হয় লিপস্টিক। যেন তারা কোনো মরণোত্তর দশা নয়, বরং সতেজ অবস্থায় আছেন!
  • আড্ডা ও ফটোসেশন: এরপর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা মৃতদেহের চারপাশে বসে গল্পগুজব করেন। মৃতদেহকে কেন্দ্র করে চলে হাসিখুশি আড্ডা, এমনকি তাদের সাথে তোলা হয় সেলফিও।

কেন এমন করেন তারা?

তোরাজা গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, মানুষ আসলে কখনো মরে না। মৃত্যু মানে কেবল এক ধরণের দীর্ঘ বিশ্রাম। তাদের মতে, পরিবারের প্রিয় মানুষটিকে ছেড়ে কোথাও চলে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই তারা সবসময় মৃতদের নিজেদের সাথেই রাখেন। এই অদ্ভুত অথচ আবেগপ্রবণ রীতি দেখার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এই গ্রামে ভিড় জমান।

মৃত্যু নিয়ে মানুষের এই অভূতপূর্ব দৃষ্টিভঙ্গি আজও এক রহস্যময় ও চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *