মহাকাশে একাধিপত্যের পথে নাসা চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি আর মঙ্গলে পারমাণবিক পরীক্ষার হুঙ্কার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আর্টেমিস মিশনের নতুন রোডম্যাপে মহাকাশ জয়ের ভয়ঙ্কর ছক কষছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের নেতৃত্বে এবার কেবল স্বল্পমেয়াদী সফর নয় বরং মহাকাশে মানুষের স্থায়ী বসতি স্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে চাঁদে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর স্থাপন এবং মঙ্গলের আকাশে শক্তিশালী হেলিকপ্টার ওড়ানোর প্রস্তুতি।
চাঁদে মানুষের স্থায়ী ঠিকানা
২০২৮ সালের আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী মানব উপস্থিতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে যাচ্ছে নাসা। সেখানে কেবল নামা নয় বরং থাকার জন্য উন্নত আবাসন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের নীলনকশা চূড়ান্ত হয়েছে।
মহাকাশ যানে পারমাণবিক শক্তি
সৌরশক্তির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর বসানোর কাজ শুরু হবে। এর আগে ২০২৮ সালে স্পেস রিঅ্যাক্টর-১ (SR-1) মিশনের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালিত প্রোপালশন সিস্টেমের পরীক্ষা চালানো হবে। এই প্রযুক্তি সফল হলে মঙ্গল বা তার চেয়েও দূরের গ্রহগুলোতে পৌঁছানো অনেক সহজ ও দ্রুততর হবে।
মঙ্গলের দুর্গম এলাকায় নাসা
লাল গ্রহের যেসব জায়গায় রোভার পৌঁছাতে পারে না সেখানে বিশেষ ড্রোন বা উন্নত হেলিকপ্টার পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। এসআর-১ মিশনের অধীনে মঙ্গলের দুর্গম এলাকাগুলো চষে বেড়াবে এই আধুনিক আকাশযান।
বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও অর্থনীতি
নাসা প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন মহাকাশ এখন আর কেবল গবেষণার ক্ষেত্র নয় বরং এটি একটি শক্তিশালী অর্থনীতির অংশ। খরচ কমাতে এবং মহাকাশ অভিযানের গতি বাড়াতে বেসরকারি সংস্থাগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে নাসা। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান ধরে রাখতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত ফলাফল আনার ওপর জোর দিচ্ছেন নাসা প্রধান।

