মহিলাদের মধ্যে নিঃশব্দে থাবা বসাচ্ছে হাইপারটেনশন! – এবেলা

মহিলাদের মধ্যে নিঃশব্দে থাবা বসাচ্ছে হাইপারটেনশন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

এক সময় হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপকে মূলত পুরুষদের রোগ বলে মনে করা হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের মধ্যে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বহু ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণগুলি প্রকাশ পেলেও সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা না হওয়ায় মহিলারা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বুক ধড়ফড় বা শ্বাসকষ্টের মতো প্রাথমিক উপসর্গগুলিকে মহিলারা প্রায়শই মানসিক চাপ বা হরমোনজনিত পরিবর্তন বলে এড়িয়ে যান। কোনো বড় লক্ষণ ছাড়াই শরীরের অভ্যন্তরে ক্ষতি করতে থাকায় চিকিৎসকেরা উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

ঝুঁকি বৃদ্ধির নেপথ্যে হরমোন ও জীবনযাত্রা

মহিলাদের শরীরে বিভিন্ন বয়সে ঘটা শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গর্ভাবস্থায় জেস্টেশনাল হাইপারটেনশন বা প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ইতিহাস থাকলে ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী হৃদ্‌রোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এছাড়া মেনোপজের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস পায়, যা রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল এবং হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির মতো বিষয়গুলিও এই ঝুঁকির জন্য দায়ী।

মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার নেতিবাচক পরিবর্তনও এই রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। কর্মক্ষেত্র ও সংসসারের দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, ধূমপান এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব মহিলাদের এই নীরব ঘাতকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ভয়াবহ প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায়

সময়মতো উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা এবং মারাত্মক হৃদ্‌রোগের কারণ হতে পারে। হৃদরোগ শুধু পুরুষদের সমস্যা—এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে মহিলাদের স্বাস্থ্যের প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উচ্চ রক্তচাপের এই ভয়ংকর প্রভাব থেকে বাঁচতে ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত মহিলার নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে যাদের ওজনের আধিক্য, ডায়াবেটিস বা পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে, তাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। দৈনিক খাদ্যতালিকায় সুষম খাবার রাখা, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ মুক্ত জীবনযাপনের মাধ্যমেই এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *