মহেঞ্জদারোর ‘নগ্ন’ মূর্তিতে হঠাত্‍ কাপড় কেন? বিতর্ক উঠতেই U-টার্ন NCERT-র – এবেলা

মহেঞ্জদারোর ‘নগ্ন’ মূর্তিতে হঠাত্‍ কাপড় কেন? বিতর্ক উঠতেই U-টার্ন NCERT-র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: প্রায় চার হাজার বছর প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার এক ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে ২০২৬ সালে এসে তুমুল বিতর্ক! মহেঞ্জোদাড়োর অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতীক ‘নৃত্যরত বালিকা’ বা ‘ডান্সিং গার্ল’-এর মূর্তিতে পোশাক চাপিয়ে এবার চরম বিতর্কের মুখে পড়ল ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)। দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পড়ে শেষমেশ পিছু হটতে বাধ্য হলো কেন্দ্রীয় এই শিক্ষা সংস্থা।

কী নিয়ে এই বিতর্ক?

সম্প্রতি নবম শ্রেণির ইতিহাসের নতুন পাঠ্যবইয়ে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়ো সভ্যতার এই বিখ্যাত ব্রোঞ্জ মূর্তিটির একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্বজুড়ে অনাবৃত হিসেবে পরিচিত এই মূর্তিটির ঊর্ধ্বাঙ্গ হঠাৎই একটি কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই ঐতিহাসিক থেকে শুরু করে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ইতিহাসকে বিকৃত করার এই চেষ্টার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র শোরগোল শুরু হয়।

ইতিহাসের পাতায় কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই মূর্তি?

১৯২৬ সালে খননকার্যের সময় মহেঞ্জোদাড়ো থেকে মাত্র ৪ ইঞ্চির এই ব্রোঞ্জ মূর্তিটি উদ্ধার হয়েছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, অলঙ্কারে সজ্জিত কিন্তু অনাবৃত এই নারীমূর্তিটি তৎকালীন সিন্ধু সভ্যতার প্রগতিশীল সমাজ ব্যবস্থা, শিল্পকলার উচ্চমান এবং নারীদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। মূর্তিটিকে কৃত্রিমভাবে ঢেকে দেওয়ার অর্থ প্রাচীন ভারতের গৌরবময় ইতিহাস ও শিল্পচেতনাকে অপমান করা।

তীব্র চাপে ‘ইউ-টার্ন’ NCERT-র:

বিতর্কের জল বহুদূর গড়াতেই অবস্থান বদল করতে বাধ্য হয় মোদী সরকারের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। NCERT-এর ডিরেক্টর দীনেশ সাকলানি জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরেই তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে পাঠ্যবইয়ে পুনরায় ‘ডান্সিং গার্ল’-এর আসল ও অবিকৃত ছবিটিই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। বইয়ের ডিজিটাল সংস্করণে এই সংশোধন এখনই কার্যকর করা হচ্ছে এবং পরবর্তী মুদ্রিত সংস্করণগুলোতেও আসল ছবিটিই থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *