মাক্রোঁ-মোদীর এআই সামিটে চিনা রোবট নিয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 20, 202610:04 am
নয়াদিল্লি: প্রযুক্তির বিশ্বমঞ্চে ভারত এখন লাইমলাইটে। রাজধানীর প্র প্রাণকেন্দ্র ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হয়েছে উচ্চপর্যায়ের কৃত্রিম মেধা বা ‘এআই সামিট’। এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত দিলেও, অনুষ্ঠানের অন্দরমহলে দানা বেঁধেছে এক গুচ্ছ বিতর্ক। একদিকে যখন কৃত্রিম মেধার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে গভীর আলোচনা চলছে, অন্যদিকে অব্যবস্থাপনা এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র নামে চিনা পণ্য ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি।
প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এবং বিশ্বনেতাদের বার্তা
ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ প্রযুক্তির মানবিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন। মোদী স্পষ্ট করেছেন যে, এআই যেন সমাজের বৈষম্য দূর করতে ব্যবহার করা হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে প্রতিরক্ষা এবং ডেটা সায়েন্সের ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম মেধার নৈতিক ব্যবহারের একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরির বিষয়েও সহমত হয়েছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও চিনা রোবট বিতর্কের নেপথ্যে
সম্মেলনের মূল আকর্ষণের অন্যতম ছিল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবন প্রদর্শন। সেখানে গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে একটি ‘রোবট কুকুর’ প্রদর্শন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই রোবটটিকে সম্পূর্ণ ‘স্বদেশী’ বা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, সেটি আসলে একটি চিনা রোবট। এই খবর জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায়। সমালোচকদের প্রশ্ন, যেখানে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার ডাক দেওয়া হচ্ছে, সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের সরকারি সম্মেলনে চিনা পণ্যকে দেশীয় বলে চালিয়ে দেওয়ার সাহস তারা পেল কী করে?
অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ও আজকের নজর
সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথিদের বসা এবং প্রবেশাধিকার নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। একাধিক প্রযুক্তিবিদ ও প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে আয়োজকদের। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই আজ সম্মেলনে কৃত্রিম মেধার ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন রয়েছে।
গোটা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ভারত মণ্ডপমের দিকে। প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ‘চিনা বিতর্ক’ শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় এবং সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।

