মাঘ পূর্ণিমায় শিব আরাধনা: রুদ্রাভিষেক ও মন্ত্র জপে ফিরবে মানসিক শান্তি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
হিন্দু ধর্মে মাঘী পূর্ণিমার তিথি অত্যন্ত পুণ্যদায়ী ও ফলদায়ী হিসেবে বিবেচিত। ২০২৬ সালে এই বিশেষ তিথিটি ১ ফেব্রুয়ারি, শনিবার পালিত হবে। শাস্ত্র মতে, এই দিন ভগবান শিবের আরাধনা করলে ভক্তের সমস্ত পাপ ক্ষয় হয় এবং শারীরিক ও মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি মেলে।
শুভ সময় ও নির্ঘণ্ট
পঞ্জিকা অনুসারে, পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫:৫২ মিনিটে এবং শেষ হবে ২ ফেব্রুয়ারি রাত ৩:৩৮ মিনিটে। এই দীর্ঘ সময়ে শিব পূজা ও কৃপা লাভের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।
রুদ্রাভিষেক ও শিব পূজার গুরুত্ব
স্কন্দ পুরাণ অনুযায়ী, পূর্ণিমা তিথি সরাসরি শিব তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত। মাঘী পূর্ণিমায় শিবলিঙ্গে জল, দুধ, দই, ঘি ও মধু দিয়ে রুদ্রাভিষেক করলে গ্রহদোষ, বিশেষ করে চন্দ্র ও রাহুর কুপ্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শিবলিঙ্গে বেলপাতা, ধুতুরা ও ভস্ম অর্পণ করলে জীবনে স্থিতিশীলতা ও মানসিক শান্তি আসে।
মন্ত্র জপ ও আধ্যাত্মিক সুফল
এই বিশেষ দিনে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ অথবা ‘মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র’ জপ করার বিধান রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পূর্ণিমার দিনে মন্ত্র জপ সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়। এটি ভয় ও নেতিবাচক চিন্তাধারা দূর করে আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি করে।
কী কী করবেন এই দিন?
- ভোরবেলা স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে শিবলিঙ্গে জলাভিষেক করুন।
- ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে বিধিমতো পূজা সমাপন করুন।
- মৌনতা অবলম্বন করে জপ ও ধ্যান করা অত্যন্ত শুভ।
- দান-ধ্যানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে; এই দিনে অন্ন, দুধ বা সাদা বস্ত্র দান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়।

