মাঝসাগরে বিকল বাণিজ্যতরী, ওমান উপকূলে মার্কিন নৌসেনার তৎপরতায় রক্ষা পেলেন ১৪ ভারতীয় নাবিক! – এবেলা

মাঝসাগরে বিকল বাণিজ্যতরী, ওমান উপকূলে মার্কিন নৌসেনার তৎপরতায় রক্ষা পেলেন ১৪ ভারতীয় নাবিক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ওমান উপসাগরে আবারও বড়সড় বিপদের মুখে পড়ল ভারতীয় নাবিকদের একটি দল। মাঝসাগরে আচমকা ইঞ্জিন বিকল হয়ে আটকা পড়ে ভারতের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যতরী। তবে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটার আগেই মার্কিন নৌসেনা ও ওমান কর্তৃপক্ষের যৌথ তৎপরতায় জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ওমানের মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এই সফল উদ্ধার অভিযানের খবরটি নিশ্চিত করেছে।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ‘বিরাট ১’ নামের ওই বাণিজ্যতরীটি ওমানের জল সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ সেটিতে মারাত্মক প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয় এবং ইঞ্জিন পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নাবিকেরা জাহাজটি পরিত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের একটি জরুরি লাইফ-রাফটে (আপাতকালীন ভেলা) স্থানান্তরিত করে। বর্তমানে ওমান বন্দর কর্তৃপক্ষের তদারকিতে এবং আশেপাশের অন্যান্য জাহাজের সহযোগিতায় তাঁদের নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা ও নাবিকদের নিরাপত্তা সংকট

সাম্প্রতিক সময়ে ওমান উপসাগর ও সংলগ্ন হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ক’দিন আগেই এই অঞ্চলে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয় এবং অন্য একটি জাহাজে আরও এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার কারণে গত ১০৭ দিন ধরে হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ১৩টি ভারতীয় জাহাজের ৫৬২ জন নাবিক চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাণিজ্যতরী ‘বিরাট ১’-এর এই যান্ত্রিক বিপর্যয় সেই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনই এই রুটে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তবে এই চলমান সংকটের মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতা সফল হলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের জীবনহানির ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *