মাঠের লড়াকু কৃষক এবার রাজডাঙায়, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র দিবাকর – এবেলা

মাঠের লড়াকু কৃষক এবার রাজডাঙায়, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র দিবাকর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনে এক বড়সড় চমক দিল শাসক দল। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদিবাসী, মতুয়া, রাজবংশী ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিদের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই নতুন মন্ত্রিসভায়। আর এই তালিকাতেই এক অনন্য সংযোজন বাঁকুড়ার সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামী। এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান থেকে সোজা রাজ্যের মন্ত্রিসভায় তাঁর এই উত্তরণ বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

উদ্বাস্তু জীবনের সংগ্রাম ও মাটির টান

১৯৪৭ সালে দেশভাগের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে বরিশালের পৈতৃক ভিটে ছেড়ে চলে আসতে হয়েছিল দিবাকর ঘরামীর দাদু-ঠাকুমাকে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে ঠাঁই মেলে বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের দামোদর নদের তীরবর্তী কুরুমপুর গ্রামে। সেখানেই এক দরিদ্র উদ্বাস্তু পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা দিবাকরের। চরম অভাবের সংসারে ছোটবেলা থেকেই চাষবাস ও কায়িক শ্রম ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২১ সালে সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করার পরও এতটুকুও অহংকার স্পর্শ করেনি তাঁকে। বিধায়ক হওয়ার পরেও তিনি নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি। আজও প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে মাঠে যান, ফসলের পরিচর্যা করেন এবং জমিতে জল দেন। মাটির সঙ্গে এই নিবিড় আত্মিক যোগই তাঁকে বাকি রাজনেতাদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

মন্ত্রিত্বের কারণ ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিবাকর ঘরামীর মতো একজন আপাদমস্তক মাটির মানুষকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক কৌশল। প্রথমত, তাঁর এই সততা ও সরল ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে দল সাধারণ ও প্রান্তিক ভোটারদের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা দিতে পেরেছে। দ্বিতীয়ত, বাঁকুড়ার মতো কৃষিপ্রধান জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে একজন প্রকৃত কৃষকের মন্ত্রিত্ব লাভ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত দিবাকরের পরিবার ও সোনামুখীর আপামোর জনতা। তাঁকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার পারদও এখন তুঙ্গে। শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রী দিবাকর ঘরামী জানান, দলের দেওয়া সমস্ত দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন এবং আগামীদিনেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে একইভাবে কাজ করে যাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *