মাতৃত্বের আনন্দ নাকি ফিগার হারানোর ভয়, কেরিয়ার ও সন্তান নিয়ে অকপট অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
গত বছর ওয়াশিংটন ডিসিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাওয়ার ঠিক পরের দিনই জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহারটি পেয়েছিলেন চিত্রাঙ্গদা শতরূপা। ‘প্রেগন্যান্সি কিট’-এ ফুটে ওঠা সেই পজিটিভ রিপোর্ট তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। তবে আনন্দের মাঝেই অভিনেত্রীর মনে উঁকি দিয়েছিল একরাশ আশঙ্কা। পেশায় শিল্পী হওয়ার কারণে নিজের পরিবর্তিত শরীর বা ‘বেবি বাম্প’ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। নিজের ফিগার আর আগের মতো ফিরে পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল মানসিক দ্বন্দ্ব।
চিত্রাঙ্গদা জানিয়েছেন, একসময় তিনি নিজের কাউন্সেলিং নিজেই করেছেন। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে মাতৃত্ব তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত, তাই শরীরের এই পরিবর্তনকে হাসিমুখে মেনে নেওয়াই শ্রেয়। তিনি মনে করেন, তিনি যেহেতু গ্ল্যামার দুনিয়ার তথাকথিত নায়িকা নন, তাই ফিতে মাপা ফিগারের চেয়ে অভিনয়ের দক্ষতা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই উপলব্ধি আসার পরেই তাঁর জীবনে বাঁধভাঙা আনন্দ ফিরে এসেছে।
বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অভিনেত্রী তাঁর এই বিশেষ সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন। স্বামী সম্বিত চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মা শতরূপা সান্যাল এবং বোন ঋতাভরী চক্রবর্তী— দুই পরিবারের আদরে কার্যত মেঘমুলুকে রয়েছেন তিনি। এমনকি গর্ভাবস্থার শুরুতেও তিনি সৌরভ পালোধীর ছবি ‘অনেক দিন পরে’-তে সাইকেল চালিয়ে শুটিং করেছেন। মুম্বইয়ের নামী সংস্থাগুলিও তাঁর স্ফীতগর্ভ চেহারায় বিজ্ঞাপন করার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে।
সন্তানের আগমনের আগে ঘটা করে হয়েছে তাঁর সাধভক্ষণ। গোলাপি সিল্কের শাড়ি আর পছন্দের সব খাবারে সেজে উঠেছিল সেই বিশেষ দিনটি। তবে জীবনের এই নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েও বাবা উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর কথা মনে পড়ছে না তাঁর। বাবার সঙ্গে কোনও মানসিক যোগ না থাকায় নিজের নামের পাশ থেকে বাবার পদবিও সরিয়ে ফেলেছেন তিনি। আপাতত কেরিয়ারের ইঁদুর দৌড় থেকে বিরতি নিয়ে একজন ‘ভালো মা’ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চিত্রাঙ্গদা।

