মাত্র ২২ বছর বয়সে ছ’বার অন্তঃসত্ত্বা! নেপথ্যের কারণ শুনে হতবাক নেটপাড়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২২ বছর বয়সেই ষষ্ঠ সন্তানের মা হতে চলেছেন এক তরুণী! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তর প্রদেশের এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের শেয়ার করা এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভারতের রাজস্থানের বাসিন্দা ওই তরুণীর মাত্র ১৫ বা ১৬ বছর বয়সেই বাল্যবিবাহ হয়েছিল। বর্তমানে চার কন্যা ও এক পুত্রের জননী হওয়া সত্ত্বেও তিনি আবারও গর্ভধারণ করেছেন। আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও কেবল আরেকটি পুত্র সন্তানের আশায় এক তরুণীর এভাবে বারবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
বংশরক্ষা ও পুত্র সন্তানের অন্ধ মোহ
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চিকিৎসকের প্রশ্নের জবাবে ওই দম্পতি জানান যে সংসারের হাল ধরার জন্য একটি মাত্র ছেলে যথেষ্ট নয়, তাদের অন্তত দুটি পুত্র সন্তান প্রয়োজন। মূলত এই অন্ধ বিশ্বাস ও সামাজিক মানসিকতার কারণেই ওই তরুণী একের পর এক সন্তানের জন্ম দিয়ে চলেছেন। চিকিৎসকের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার না করার কারণ জানতে চাওয়া হলে, পরিবারের পক্ষ থেকে বংশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই সনাতনী যুক্তি ও চাপকেই সামনে আনা হয়।
ঝুঁকিতে মাতৃস্বাস্থ্য ও সচেতনতার অভাব
বারবার গর্ভধারণের ফলে ওই তরুণী ইতিমধ্যে মাথা ঘোরা এবং শ্বাসকষ্টসহ একাধিক গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের মতে, পরপর দুবার গর্ভধারণের মাঝে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই নিয়ম না মেনে এত কম বয়সে বারবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ওই তরুণীর স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই ঘটনাটি গ্রামীণ এলাকায় বাল্যবিবাহের অভিশাপ, পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে অসচেতনতা এবং পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষায় নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের এক ভয়াবহ চিত্রকে পুনরায় সামনে এনেছে। এর ফলে নারীদের অপুষ্টি ও মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
