মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে লক্ষাধিক টাকা তোলাবাজি, জালে দাপুটে তৃণমূল নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জামালপুর: আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও লক্ষাধিক টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খাঁন। জামালপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের পর একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে। বৃহস্পতিবার বর্ধমান আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিস্তারিত: সালালপুর গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ পণ্ডিতের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মেহেমুদ খাঁন তাঁর কাছে ১২ লক্ষ টাকা দাবি করেন। চাপের মুখে বিশ্বজিৎবাবু ইতিমধ্যে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মেমারি-তারকেশ্বর রোডে বিশ্বজিৎবাবুর পথ আটকে মেহেমুদ খাঁন ও তাঁর অনুগামীরা (যাদের মধ্যে আজাপুর অঞ্চলের নেতা প্রতাপ রক্ষিতও ছিলেন বলে অভিযোগ) তাঁকে ঘিরে ধরে। অভিযোগ, মেহেমুদ খাঁন বন্দুক উঁচিয়ে তাঁর মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং মারধর করেন। ঘটনার পর পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিশ্বজিৎবাবু আরও ১ লক্ষ টাকা দেন, তবুও তোলাবাজি ও হুমকি থামেনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদলের পর শেষপর্যন্ত তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার সরব হয়ে দাবি করেছেন, মেহেমুদ খাঁনের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি ও দুর্নীতি ছাড়াও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে ইডি (ED) তদন্তের দাবিও তুলেছেন বিধায়ক।
অন্যদিকে, জামালপুরের এক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নেত্রী মীরাতাজ শেখের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের রাতে পার্টি অফিস থেকে ব্যাগ ভর্তি টাকা ও জমির দলিল অন্যত্র সরানো হয়েছিল। এই বিপুল সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
