মানুষের কাজ কাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! এক বছরে ওরাকেলের ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই – এবেলা

মানুষের কাজ কাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! এক বছরে ওরাকেলের ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর উত্থান এবার সরাসরি আঘাত হানছে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের কর্মসংস্থানে। খাতা-কলমের হিসাব পেরিয়ে এবার বাস্তবেই মানুষের কাজ কেড়ে নিচ্ছে অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি। গত ১২ মাসে বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা ওরাকেল থেকে ২১ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, যে কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছে তাঁদের কাজ এখন থেকে এআই দিয়ে সম্পন্ন হবে এবং এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ ও ছাঁটাই

গত ৩১ মে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ওরাকেলের পূর্ণ সময়ের কর্মীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৬২ হাজার থেকে কমে ১ লক্ষ ৪১ হাজারে নেমে এসেছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট বলছে, ওরাকেল বর্তমানে ওপেনএআই-এর গ্রাহকদের জন্য এআই ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। এই নয়া প্রযুক্তিতে রূপান্তর ও কর্মী ছাঁটাইয়ের জেরে সংস্থার মোট খরচ হয়েছে ১.৮ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালে ২৮ বিলিয়ন ডলারে ‘সেরনার’ সংস্থাকে অধিগ্রহণের পর ওরাকেলে কর্মী সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা অধিগ্রহণের আগের চেয়েও কমে গেছে, যা বিশেষজ্ঞদের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গভীর প্রভাবের শঙ্কা

ওরাকেলের এই পদক্ষেপ গোটা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বহু আগে থেকেই এআই-এর কারণে চাকরি হারানোর যে আভাস দিয়েছিলেন, তা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জেরে সবচেয়ে গুরুতরভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের কর্মীরা। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, চিরাচরিত তথ্যপ্রযুক্তি ও এমবিএ-দের যুগ কার্যত শেষ হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই টিসিএস এবং ইনফোসিসের মতো ভারতের শীর্ষ আইটি সংস্থাগুলো নতুন বরাত পেতে হিমশিম খাচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব তাদের শেয়ার বাজারের পারফরম্যান্সেও স্পষ্টভাবে নজরে পড়ছে। প্রযুক্তির এই পালাবদলের ফলে বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের বাজারে এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *