লেটেস্ট নিউজ

মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে জঘন্য আক্রমণ, ইমন চক্রবর্তী নিলেন চরম সিদ্ধান্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: বৃহস্পতিবার সকালটা একরাশ বিষণ্ণতা আর দহন নিয়ে শুরু করলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। কোনও রাখঢাক না করেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়ার এক অপ্রত্যাশিত ঘোষণা করলেন তিনি। নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর মানসিক ক্ষত এবং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ। গায়িকার কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট ক্লান্তি আর যন্ত্রণার সুর, যা তাঁর অনুরাগীদের রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

কেন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন গায়িকা?

ফেসবুক লাইভে এসে ইমন জানান, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রচারে একটি ‘পাঁচালি’ গাওয়ার পর থেকেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র কটাক্ষ ও বিদ্রুপের শিকার হচ্ছিলেন। কিন্তু সেই আক্রমণ যখন তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছাড়িয়ে তাঁর প্রয়াত মায়ের স্মৃতি পর্যন্ত পৌঁছাল, তখন আর নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি শিল্পী। ইমনের অভিযোগ, তাঁর মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর দিন করা একটি আবেগঘন পোস্টের নিচে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে।

জনৈক নেটিজেন বিদ্রুপ করে লেখেন যে, পাঁচালি গেয়ে বঙ্গবিভূষণ পেয়েছেন, এবার বোধহয় নোবেলও পাবেন—এই দৃশ্য যেন তাঁর পরলোকগত মা দেখে যান। এই চরম অসংবেদনশীলতা ইমনকে ভিতর থেকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। সারারাত চোখের পাতা এক করতে পারেননি গায়িকা। তিনি জানান, এই মানসিক হেনস্থার প্রভাব তাঁর শরীরের ওপরও পড়েছে, তিনি আক্ষরিক অর্থেই অসুস্থ বোধ করছেন।

শিল্পী হিসেবে ইমনের পাল্টা প্রশ্ন

লাইভে নিজের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করেন ইমন। তিনি বলেন, গান গাওয়াই তাঁর একমাত্র পেশা এবং ধর্ম। রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে শুরু করে প্লেব্যাক, কিংবা হিন্দি, ওড়িয়া ও পাঞ্জাবি গান—সবই তিনি সমান নিষ্ঠার সঙ্গে গেয়েছেন। পাঁচালি গাওয়াটাও ছিল তাঁর পেশাদার জীবনের একটি অংশ মাত্র। তাঁর পরিবারের যেখানে কোনও আপত্তি নেই, সেখানে বাইরের কিছু মানুষ কেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, পোশাক বা রাজনৈতিক পছন্দ নিয়ে বিষোদগার করবেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

হাতজোড় করে ইমন অনুরোধ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরকে যেন সম্মান জানানো হয়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কারোর যদি তাঁর গান পছন্দ না হয় তবে তারা শুনবেন না, কিন্তু মৃত মাকে টেনে এনে অপমান করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

সম্পর্ক ছিন্ন হলেও পুরোপুরি বিচ্ছেদ নয়

তবে পেশাদার জগতের বাস্তবতাকে অস্বীকার করেননি ইমন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া কাজের প্রচারের জন্য অপরিহার্য। তাই তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলটি চালু থাকবে, তবে তা পরিচালনা করবে তাঁর টিম। সেখানে কেবল নতুন গানের আপডেট এবং পেশাগত তথ্য শেয়ার করা হবে। ব্যক্তিগত কোনও অনুভূতি বা মুহূর্ত আর কখনও এই প্ল্যাটফর্মে জনসমক্ষে আনবেন না তিনি।

একজন গুণী শিল্পী যখন জনসমক্ষে এভাবে অপমানের শিকার হয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন, তখন ডিজিটাল দুনিয়ার সুস্থতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়। ইমনের এই সরে দাঁড়ানো আসলে আমাদের সমাজের এক অংশের অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *