লেটেস্ট নিউজ

মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় রক্তক্ষয়ী ইরান, স্কুলে আছড়ে পড়ল মিসাইল এবং প্রাণ হারালো ৪০ জন ছাত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে এক ভয়াবহ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল বিশ্ব। শনিবার সকালে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইজরায়েলি মিসাইল হামলায় অন্তত ৪০ জন স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) নিশ্চিত করেছে যে, এই নৃশংস হামলায় প্রাণহানির পাশাপাশি আরও ৪৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিধ্বস্ত স্কুল চত্বর থেকে রক্তাক্ত ছাত্রীদের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ট্রাম্পের রণংদেহি মেজাজ এবং যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প সরাসরি ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্পের সাফ কথা, “ইরান কখনই পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে না। আমেরিকা তাদের সমস্ত পরমাণু স্থাপনা এবং দূরপাল্লার মিসাইল তৈরির ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, যদি বর্তমান ইরানি প্রশাসন তাদের পরমাণু কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে না আসে, তবে তাদের পরিণাম হবে ভয়াবহ মৃত্যু।

কেন এই ভয়াবহ অভিযান

মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরটি ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) একটি শক্তিশালী ঘাঁটি। আমেরিকার অভিযোগ, ইরান সরকার অত্যন্ত গোপনে তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুনর্নির্মাণ করছে এবং ইজরায়েল ও আমেরিকার ওপর হামলার জন্য ঘাতক মিসাইল তৈরি করছে। ট্রাম্পের মতে, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান যেভাবে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগান দিয়ে আসছে এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দিচ্ছে, তা রুখতেই এই বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

হামাস প্রসঙ্গ এবং ইজরায়েলের অবস্থান

এই হামলার প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের ওপর হামাসের নজিরবিহীন আক্রমণের প্রসঙ্গটি পুনরায় সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, “ইরানের মদতপুষ্ট হামাস ১০০০-এর বেশি নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে ৪৬ জন আমেরিকানও ছিলেন। ইরান হলো বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র যারা নিজেদের সাধারণ মানুষকেও রাস্তায় নামলে হত্যা করতে দ্বিধা করে না।”

যদিও এই নির্দিষ্ট স্কুল হামলার বিষয়ে ইজরায়েল বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো পৃথক বিবৃতি এখনও পাওয়া যায়নি, তবে ট্রাম্পের ভিডিও বার্তাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে এখন এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ৪০ জন নিষ্পাপ শিশুর এই মৃত্যু আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *