মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ড থেকে সরলো ইন্দো, কোয়াডের ভবিষ্যৎ নিয়ে শশী থারুরের তীব্র কটাক্ষ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও কৌশলগত কূটনীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে মার্কিন ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ থেকে বাদ পড়ল ‘ইন্দো’ শব্দটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ারের সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই সামরিক কমান্ডের পুরনো নাম ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড’ বা ‘প্যাসিফিক কমান্ড’ পুনর্বহাল করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক নীতিগত পরিবর্তনের ফলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ কূটনৈতিক ও কৌশলগত জোট ‘কোয়াড’ (চতুর্দেশীয় অক্ষ) বড় ধরনের গুরুত্বহীনতার সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন এই সিদ্ধান্ত ভারতের জাতীয় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পদক্ষেপকে ‘কোয়াডের কফিনে আরও একটি পেরেক’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নাম পরিবর্তনের সমীকরণ
১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের আমলে বৃহত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এই ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড গঠিত হয়। এটি মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম ঐক্যবদ্ধ সামরিক শাখা। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তত্কালীন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার মেলবন্ধনকে স্বীকৃতি দিতে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ করেছিলেন। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন সিদ্ধান্তে ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর অজুহাতে পূর্বের নাম ফিরিয়ে আনা হলো। যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নাম বদলালেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু করে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই কমান্ডের কাজের পরিধি, লক্ষ্য বা ভৌগোলিক সীমানায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।
কৌশলগত প্রভাব ও দিল্লির উদ্বেগ
কমান্ডের নাম থেকে ‘ইন্দো’ শব্দটির বিলুপ্তি কেবল একটি প্রশাসনিক বা প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং এর গভীর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। ভারতের জন্য এই কমান্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এর মাধ্যমেই আমেরিকার সঙ্গে ভারতের যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘কোয়াড’ জোটের মূল ভিত্তিই গড়ে উঠেছিল ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ধারণাকে কেন্দ্র করে। সেখানে মার্কিন সামরিক কমান্ড থেকে ভারতের প্রতীকী উপস্থিতি বাদ পড়া ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। সামুদ্রিক পথ সুরক্ষিত রাখা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারত যে প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমের ওপর ভরসা রাখছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
