মালদহে বিচারক ঘেরাওকাণ্ডে রণক্ষেত্র কালিয়াচক, গ্রেফতার আইএসএফ প্রার্থীসহ ১৮

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মালদহের কালিয়াচক। বুধবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে বিক্ষোভ চলাকালীন কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিসে কর্মরত সাতজন বিচারককে কয়েক ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি এবং আরও ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকাল থেকেই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অসন্তোষ নিয়ে মালদহের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভকারীরা ব্লক অফিসের সামনে ভিড় জমালে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। বিকেল ৪টে থেকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গভীর রাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইএসএফ প্রার্থী শাহজাহান আলি। তাঁর দাবি, এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে, মালদহের এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানায় যে, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি বিষয়কে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজ্যের এই অতিরিক্ত ‘রাজনৈতিক মেরুকরণ’ এবং আদালতের নির্দেশ পালনে প্রশাসনের শ্লথ গতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন বিচারপতিরা। নির্বাচনের মুখে খোদ বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন সঙ্কটে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
