লেটেস্ট নিউজ

মাসে ১০০০ টাকার ভরসায় সামাজিক সুরক্ষা? অটল পেনশন নিয়ে বড় প্রশ্ন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্ব সামাজিক সুরক্ষা সূচকে চীনকে ধাওয়া করে ভারত দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, বাস্তব চিত্রটা কি আদৌ ততটা উজ্জ্বল? মোদি সরকারের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রকল্প অটল পেনশন যোজনা (APY) নিয়ে এখন এমনই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ব্যাংকারদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়ার পরেও এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্তিকরণের হার ক্রমশ নিম্নমুখী। আর যারা নাম লেখাচ্ছেন, তাদের বড় অংশই পড়ে আছেন ন্যূনতম পেনশনের ঘরে।

১০০০ টাকার পেনশনে ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত?

কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। কিন্তু আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এর অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যানে। দেখা যাচ্ছে, মোট গ্রাহকের প্রায় ৮৭ শতাংশ বা ৭ কোটি ৩৫ লক্ষ মানুষই মাসে মাত্র ১০০০ টাকা পেনশনের জন্য প্রিমিয়াম দিচ্ছেন। ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকার স্ল্যাবে গ্রাহক সংখ্যা নামমাত্র। মাত্র ৮ শতাংশ গ্রাহক ৫০০০ টাকার সর্বোচ্চ পেনশনের জন্য নথিভুক্ত হয়েছেন।

এখন প্রশ্ন উঠছে, আজকের ২০-৩০ বছর বয়সী একজন গ্রাহক যখন ৪২ বছর পর ৬০ বছরে পা দেবেন, তখন ওই ১০০০ টাকার ক্রয়ক্ষমতা ঠিক কতটা থাকবে? ৪২ বছর পরের মুদ্রাস্ফীতির বাজারে মাসে হাজার টাকা দিয়ে কোনোভাবেই কি সামাজিক সুরক্ষা সম্ভব? এমনকি অর্থ বিষয়ক সংসদীয় কমিটিও এই ন্যূনতম স্ল্যাবে পড়ে থাকার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা ও বাজেটে অনীহা

সরকারি রিপোর্ট বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশ অর্জিত হলেও পরবর্তী বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৪ শতাংশে। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বাজেটের মাত্র ২৯ শতাংশ খরচ করতে পেরেছে সরকার। অর্থাৎ, জনমানসে এই প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় ফাটল তৈরি হয়েছে।

ব্যাংক কর্মীদের বিস্ফোরক দাবি

বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশনের শীর্ষ কর্তারা একযোগে জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত কোনো আগ্রহ নেই। ব্যাংক কর্মীদের একাংশের অভিযোগ:

  • সরকারের চাপিয়ে দেওয়া টার্গেট পূরণ করতে গ্রাহকদের একপ্রকার বাধ্য করা হচ্ছে।
  • অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের অজান্তেই নথিপত্রে সই করিয়ে নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
  • প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সুবিধা বা মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষার বিশ্বমঞ্চে ভারত হাততালি কুড়োলেও, তৃণমূল স্তরে ‘৪২ টাকার লগ্নি’ সাধারণ মানুষের বার্ধক্যের অন্ধকার ঘোচাতে পারবে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের সংশয় ক্রমেই বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *