লেটেস্ট নিউজ

মাসে ২০,৫০০ টাকা নিশ্চিত আয়! প্রবীণদের জন্য পোস্ট অফিসের এই স্কিম যেন ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অবসর জীবনের দিনগুলোতে আর্থিক স্বচ্ছলতা বজায় রাখা অনেকের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। সঞ্চিত অর্থ কোথায় রাখলে তা নিরাপদ থাকবে এবং সেখান থেকে সম্মানজনক রিটার্ন আসবে, সেই চিন্তায় থাকেন প্রবীণরা। বয়স্কদের এই দুশ্চিন্তা দূর করতে পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS) বর্তমানে অন্যতম সেরা বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে। এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করে একজন গ্রাহক বছরে ২.৪৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত আয় করতে পারেন।

SCSS কী এবং কারা বিনিয়োগ করতে পারবেন?

এটি মূলত প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ডিজাইন করা একটি স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্প। সাধারণত ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এতে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। তবে যারা ভিআরএস (VRS) নিয়েছেন, তারা ৫৫ বছর বয়সেই নির্দিষ্ট শর্তে এই স্কিমে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের ক্ষেত্রে বয়সের এই সীমা আরও শিথিল।

একনজরে স্কিমের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ:

  • নিরাপত্তা: যেহেতু এটি সরকারি প্রকল্প, তাই আপনার বিনিয়োগ করা মূলধন ১০০ শতাংশ সুরক্ষিত।
  • আকর্ষণীয় সুদ: বর্তমানে এই স্কিমে বার্ষিক ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যাংক এফডির তুলনায় অনেকটাই বেশি।
  • বিনিয়োগের সীমা: সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এই স্কিমে জমা রাখতে পারেন।
  • মেয়াদ: স্কিমটির প্রাথমিক মেয়াদ ৫ বছর। তবে মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী চাইলে আরও ৩ বছরের জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে নিতে পারেন।
  • কর ছাড়: আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী, এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স রিবেট পাওয়া যায়।

বছরে ২.৪৬ লক্ষ টাকা আয়ের হিসাব

যদি কোনো বিনিয়োগকারী তার একাউন্টে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা জমা রাখেন, তবে ৮.২% সুদের হারে ৫ বছরে তার মোট অর্জিত সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। এই অঙ্ককে বার্ষিক হিসেবে ভাগ করলে দেখা যায়, প্রতি বছর বিনিয়োগকারীর পকেটে আসবে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা

নিয়মিত আয়ের দুর্দান্ত সুযোগ

এই স্কিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর লভ্যাংশ প্রদানের পদ্ধতি। এখানে সুদের টাকা প্রতি তিন মাস অন্তর (ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে) বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে।

  • ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে: প্রতি তিন মাসে সুদ বাবদ পাওয়া যাবে ৬১,৫০০ টাকা
  • মাসিক গড় আয়: হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি মাসে প্রায় ২০,৫০০ টাকা নিশ্চিত রোজগার সম্ভব, যা একজন অবসরপ্রাপ্ত মানুষের দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য যথেষ্ট।

মেয়াদ বৃদ্ধির নিয়ম

৫ বছরের লক-ইন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর গ্রাহক যদি চান তার বিনিয়োগ বজায় রাখতে, তবে তিনি আরও ৩ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়াতে পারেন। সেক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। বর্ধিত মেয়াদে সেই সময়ে প্রচলিত সুদের হার কার্যকর হবে।

সঞ্চয়ের নিরাপত্তা এবং উচ্চ হারে মাসিক আয়ের সুবিধা মেলায় বর্তমানে মধ্যবিত্ত প্রবীণদের কাছে পোস্ট অফিসের এই সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *