মিথ্যে প্রশংসা আমার স্বভাব নয়, সিনেমা নিয়ে আমিরের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি – এবেলা

মিথ্যে প্রশংসা আমার স্বভাব নয়, সিনেমা নিয়ে আমিরের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বলিউডে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আমির খান বরাবরই নিজের কাজ ও আদর্শ নিয়ে আপসহীন। সম্প্রতি মুম্বইয়ে আয়োজিত একটি মাস্টারক্লাসে নিজের সিনেমা দেখার অভ্যাস এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্য কৌশল নিয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা ও পরিচালক। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, লোকদেখানো বা কাউকে খুশি করার জন্য মিথ্যে প্রশংসা করা তাঁর পক্ষে একেবারেই আসাম্ভব। এই অকপট স্বভাবের কারণেই তিনি অন্য পরিচালকদের ছবির আগাম প্রদর্শনী বা ‘টেস্ট স্ক্রিনিং’ এড়িয়ে চলেন।

আমির খান জানান, শৈশব থেকেই রূপালী পর্দার চেয়ে বইয়ের পাতার প্রতিই তাঁর আকর্ষণ ছিল বেশি। চলচ্চিত্র জগতের প্রথম সারির তারকা হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজে খুব কম সিনেমা দেখেন। তবে সিনেমা কম দেখার পেছনে শুধু সময়ের অভাব নয়, বরং তাঁর অতিরিক্ত স্পষ্টবাদিতাও একটি বড় কারণ। কোনো সিনেমা পছন্দ না হলে তিনি সরাসরি তা নির্মাতার মুখে বলে দেন, যা অনেক সময় সংশ্লিষ্টদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ছবি মুক্তির মাত্র কয়েক দিন আগে যখন কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তখন মতামত দেওয়াকে তিনি অর্থহীন বলে মনে করেন।

টেস্ট স্ক্রিনিংয়ের বিজ্ঞান ও আমিরের অভিজ্ঞতা

চলচ্চিত্র নির্মাণে ‘টেস্ট স্ক্রিনিং’ বা মুক্তির আগে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন আমির খান। তাঁর মতে, এটি আসলে একটি বিজ্ঞান। তবে এই প্রক্রিয়ায় সফল হতে হলে নির্মাতাকে অবশ্যই সমালোচনা শোনার মানসিকতা রাখতে হবে। দর্শক হয়তো সরাসরি কারিগরি বা চিত্রনাট্যের ত্রুটি সমাধান করতে পারবেন না, কিন্তু সিনেমার কোনো অংশটি তাঁদের ভালো লাগেনি বা কোথায় তাঁরা বিরক্ত হয়েছেন, সেই সংকেতটি ঠিকই দিয়ে দেন। একজন দক্ষ নির্মাতার কাজ হলো দর্শকদের সেই মনস্তাত্ত্বিক সংকেতগুলো সঠিকভাবে অনুধাবন করা এবং আত্মরক্ষামূলক না হয়ে গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করা।

ব্যর্থতা থেকে সফলতার গল্প

নিজের পরিচালিত কালজয়ী সিনেমা ‘তারে জমিন পার’ নির্মাণের সময়কার একটি অজানা অধ্যায়ও এই মাস্টারক্লাসে ভাগ করে নেন আমির। তিনি জানান, ছবিটির প্রথম টেস্ট স্ক্রিনিংয়ের ফলাফল মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। প্রথম প্রদর্শনীতে দর্শকদের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর তিনি হতাশ না হয়ে ছবির সম্পাদনায় (এডিটিং) সূক্ষ্ম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন আনেন। পরবর্তীতে এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই পুরো সিনেমার গতিপথ বদলে দেয় এবং ছবিটি দর্শক ও সমালোচক মহলে বিপুল প্রশংসা কুড়ায়। আমির খানের এই অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য এক অনন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *