মুকুল রায়ের প্রয়াণ, বঙ্গ রাজনীতিতে এক চাণক্যের বিদায় ও অমীমাংসিত সমীকরণ
বাংলার রাজনীতির ‘চাণক্য’ মুকুল রায়ের জীবনাবসানে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। দীর্ঘ অসুস্থতার পর রবিবার মধ্যরাতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্য—উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল অপরিসীম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদীসহ শীর্ষ নেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অনবদ্য অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।
মুকুল রায়ের প্রয়াণে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। দিলীপ ঘোষ তাঁকে কেবল বিজেপির একজন ‘সার্ভিস’ দেওয়া কর্মী হিসেবে উল্লেখ করলেও, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মূল্যায়নে মুকুল রায় ছিলেন ১৮টি আসন জয়ের নেপথ্য কারিগর। মূলত মুকুল রায়ের ক্ষুরধার বুদ্ধিতেই ২০১৯ সালে বঙ্গে পদ্ম শিবিরের উত্থান ঘটেছিল, যা পরবর্তী সময়ে বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভিত শক্ত করতে সাহায্য করে।
তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলেই মুকুল রায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। সৌমিত্র খাঁ বা নিশীথ প্রামাণিকের মতো নেতাদের দলবদল করিয়ে জয় নিশ্চিত করার নেপথ্যে ছিল তাঁর সূক্ষ্ম পরিকল্পনা। শেষ জীবনে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্মৃতি হারালেও এবং দলের অভ্যন্তরে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও, বঙ্গ রাজনীতির পালাবদলের ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর অভাব পূরণ হওয়া কঠিন।

