মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার দিঘায় শুভেন্দু অধিকারী, দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার সম্ভাবনা – এবেলা

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার দিঘায় শুভেন্দু অধিকারী, দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার সম্ভাবনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর প্রথমবার দিঘা সফরে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার বিকেলে দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের (ডিএসডিএ) একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন তিনি। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই মেগা বৈঠকে দিঘার সামগ্রিক উন্নয়ন ছাড়াও দাদনপাত্রবাড়ে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়টি মূল আলোচ্যসূচি হিসেবে স্থান পেতে চলেছে। বৈঠকে কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস, রামনগরের বিধায়ক ডঃ চন্দ্রশেখর মণ্ডল ছাড়াও জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত রয়েছেন।

তাজপুরের বিকল্প হিসেবে দাদনপাত্রবাড়েই নজর

পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় জমির অভাবে সেই প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। সরকারের এই পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই স্থবির হয়ে পড়া প্রকল্পটিকে গতিশীল করতে উদ্যোগী হয়েছেন। সম্প্রতি শিল্পপতি করণ আদানির সঙ্গেও এই বিষয়ে তাঁর একটি বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। তাজপুরে সরকারি জমির তীব্র সংকট থাকায়, সেখান থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়ে সমুদ্রবন্দর স্থানান্তরের বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দাদনপাত্রবাড়ের পরিত্যক্ত নুন কারখানার ১ হাজার ৭০০ একর খাস জমিকে এই প্রকল্পের জন্য আদর্শ মনে করছে বর্তমান সরকার। রোববারের এই প্রশাসনিক বৈঠকে সেই নির্দিষ্ট জমির আইনি ও কারিগরি দিক খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও সামগ্রিক উন্নয়ন

দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হলে তা সমগ্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলাসহ রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জোয়ার আনবে। বন্দরকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতির চেহারা পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। এর পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দিঘা, মন্দারমণি এবং শংকরপুরের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও এই বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সদ্যই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নামবদল সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের ঘোষণার পর, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি পর্যটন ও শিল্প উভয় খাতের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *