মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুৎসিত মিম, ভোটের মুখে রাজনৈতিক সৌজন্য ভুলে চরম অশালীনতা! – এবেলা

মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুৎসিত মিম, ভোটের মুখে রাজনৈতিক সৌজন্য ভুলে চরম অশালীনতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান ছাপিয়ে এবার ব্যক্তিগত আক্রমণের কদর্য রূপ সামনে এল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বিকৃত করে সমাজমাধ্যমে একটি আপত্তিকর ও যৌনগন্ধী মিম ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। উত্তরপ্রদেশের এক যুবকের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ছবি পোস্ট হওয়ার পরপরই অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপির দিকে। একজন ৭১ বছর বয়সী মহিলার শরীরকে কেন্দ্র করে এমন কুরুচিকর রসিকতায় সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা।

প্রতিবাদে সরব নাগরিক সমাজ ও তারকাকুল

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অরিত্র দত্ত বণিক, অনন্যা চট্টোপাধ্যায় এবং মানসী সিনহার মতো টলিপাড়ার ব্যক্তিত্বরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একজন নারীর প্রতি এই ধরণের অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে দাবি করেছেন তাঁরা। অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিকের মতে, সমালোচনা বা ট্রোল কখনোই সমাজ বিধ্বংসী স্তরে নামানো উচিত নয়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা সাইবার সেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে, অভিনেত্রী রূপালি রাই ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে অশিক্ষা ও মানসিক বিকৃতির লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় আশঙ্কাজনক অবক্ষয়

পরিচালক পারমিতা মুন্সী এই ঘটনাকে ‘সিম্বলিক ভায়োলেন্স’ বা প্রতীকী হিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক বিরোধিতা যখন ব্যক্তিগত যৌন বিদ্রূপে রূপ নেয়, তখন তা সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর অবক্ষয়কেই স্পষ্ট করে তোলে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি কলুষিত হচ্ছে, তেমনই নারী নিরাপত্তার প্রশ্নেও জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই ধরণের বিকৃত মানসিকতা রুখতে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ ও রাজনৈতিক চরিত্রহননের প্রবণতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা।

এক ঝলকে

  • মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বিকৃত করে অত্যন্ত কুরুচিকর মিম ছড়ানোর অভিযোগে উত্তেজনা।
  • ঘটনার নেপথ্যে উত্তরপ্রদেশের এক যুবকের অ্যাকাউন্ট এবং বিরোধী দলের একাংশের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ।
  • রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে অরিত্র দত্ত বণিক ও অনন্যা চট্টোপাধ্যায়সহ টলিপাড়ার বিশিষ্টদের কড়া প্রতিবাদ ও ধিক্কার।
  • নির্বাচন কমিশনের সাইবার সেল এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *