মুখ্যমন্ত্রীদের গদি কাড়ত দিল্লির ‘অভিশপ্ত বাংলো’! এবার কেন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে সরকার? – এবেলা

মুখ্যমন্ত্রীদের গদি কাড়ত দিল্লির ‘অভিশপ্ত বাংলো’! এবার কেন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে সরকার? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ দিন ধরে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে ‘ভূত বাংলো’ বা ‘অভিশপ্ত ঠিকানা’ হিসেবে পরিচিত ৩৩ শামনাথ মার্গের সরকারি বাসভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই সুবিশাল বাংলোটি ভেঙে সেখানে দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (ডিডিএমএ) প্রথম সদর দফতর তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কীভাবে জুড়ল ‘অভিশপ্ত’ তকমা?

১৯২০ সালে সিভিল লাইন্স এলাকায় ৫,৫০০ বর্গমিটারেরও বেশি জমির ওপর নির্মিত এই বাংলোর ইতিহাস বেশ রহস্যময়। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক প্রভাবশালী রাজনীতিক ও আমলা এখানে বসবাস করলেও, কেউই তাঁদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। ১৯৫২ সালে দিল্লির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী চৌধুরী ব্রহ্ম প্রকাশ এই বাংলোতে বসবাস শুরু করলেও ১৯৫৫ সালে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মদন লাল খুরানা এবং পরবর্তীতে সাহেব সিংহ বর্মাও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গদি ছাড়তে বাধ্য হন।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ২০০৩ সালে। তৎকালীন মন্ত্রী দীপ চাঁদ বন্ধু শুভাকাঙ্ক্ষীদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এই বাংলোতে ওঠার কিছুদিন পরই ম্যানিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরবর্তীতে আমলা শক্তি সিংহ থেকে শুরু করে দিল্লি ডায়ালগ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান আশীষ খেতান ও জেসমিন শাহ—প্রত্যেককেই বিতর্ক বা আকস্মিক পরিস্থিতির জেরে অকালেই পদ ছাড়তে হয়। এই ধারাবাহিক পতন ও দুর্ভাগ্যের কারণেই ঠিকানাটি ধীরে ধীরে ‘অলুক্ষুনে’ হিসেবে কুখ্যাতি পায় এবং দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।

অন্ধবিশ্বাসের অবসান ও সম্ভাব্য প্রভাব

বর্তমানে দিল্লিতে ডিডিএমএ-র কোনো নির্দিষ্ট ও স্বতন্ত্র সদর দফতর নেই। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম একাধিক দফতরে বিভক্ত থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় সাধনে প্রবল সমস্যা হয়। এই প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতেই দিল্লি সরকার কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের অবসান ঘটিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলার ছন্নছাড়া ব্যবস্থাকে এক ছাতার নীচে আনার পরিকল্পনা করেছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ঐতিহ্যবাহী ৩৩ শামনাথ মার্গের পুরনো পরিচয় পুরোপুরি বদলে যাবে। দীর্ঘ দশকের রাজনৈতিক গুঞ্জন, দুর্ভাগ্য ও জনশ্রুতির অবসান ঘটিয়ে জায়গাটি রাজধানীর জননিরাপত্তা, জরুরি প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের অন্যতম আধুনিক এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *