মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের এমপি ও ৬ বিধায়ক, বঙ্গ রাজনীতিতে জোর জল্পনা! – এবেলা

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের এমপি ও ৬ বিধায়ক, বঙ্গ রাজনীতিতে জোর জল্পনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরের মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর এক নতুন রাজনৈতিক প্রথা চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন সরকারের ‘শুধুমাত্র শাসক’ তত্ত্বের বাইরে গিয়ে কল্যাণীর এপিজে আবদুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া এবং হুগলি জেলার সাংসদ ও বিধায়কদের। মুখ্যমন্ত্রীর সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তৃণমূলের হেভিওয়েট সাংসদ ও বিধায়কদের উপস্থিতি বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কাকলি ঘোষদস্তিদারসহ ৬ তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতি

কল্যাণীর এই প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ স্বীকার করে কার্যত সকলকে চমকে দিয়েই হাজির হন বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। তাঁর পাশাপাশি বৈঠকে যোগ দেন বাদুড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক বুরহান-উল-মুকদ্দিন (লিটন), হাড়োয়ার আবদুল মতিন, বসিরহাট দক্ষিণের সুরজিৎ মিত্র (বাদল), স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল, মিনাখার ঊষারানি মণ্ডল এবং দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ। তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক ও জেলা সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর কাকলি ঘোষদস্তিদারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অলিন্দে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে সাংসদ জানান, “সরকার সবার। এখানে রাজনীতি জড়াবেন না। আমি স্রেফ সরকারি বৈঠকে যোগ দিতে এসেছি।”

উন্নয়নের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে আমন্ত্রণের নীতি

বৈঠকে কেবল উপস্থিত থাকাই নয়, বারাসাতের সাংসদ নিজের এলাকার উন্নয়নের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বক্তব্য পেশ করে বলেন, “যেকোনো জনপ্রতিনিধিকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়াটাই গণতন্ত্রের রীতি। আমরা সেই প্রথা মেনে রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে সকলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” অন্যদিকে, একই দিনে উত্তরকন্যায় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের ডাকা বৈঠকেও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, কানহাইয়ালাল আগরওয়ালসহ তৃণমূলের ১৪ জন বিধায়ক হাজির ছিলেন। বিধানসভাতেও শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক। সর্বত্রই তৃণমূল নেতাদের যুক্তি একটাই—এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁরা সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন।

তৃণমূলের আপত্তি ও অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা

তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ অবশ্য এই উপস্থিতিকে ভালো চোখে দেখছে না। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেখানে জেলা জুড়ে কর্মীদের ওপর অত্যাচার চলছে, সেখানে এই ধরনের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহের এক বড় পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে, আজ বুধবার থেকেই রাজ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র আবেদনপত্র বিলি এবং অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে।

এক ঝলকে

  • কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার ও ৬ জন বিধায়ক।
  • দলমত নির্বিশেষে জনপ্রতিনিধিদের সম্মান দেওয়া এবং রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থেই এই নতুন প্রথা শুরু করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
  • একই দিনে উত্তরকন্যায় নিশীথ প্রামাণিকের বৈঠকে ১৪ জন এবং বিধানসভায় আরও ২ জন তৃণমূল বিধায়ক সরকারের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
  • এই রাজনৈতিক জল্পনার আবহেই আজ বুধবার থেকে রাজ্যে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র আবেদনপত্র বিলি ও অনলাইন পোর্টাল চালু হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *