মৃত ভেবে কুয়োয় ছুঁড়ে ফেলেছিল খুনিরা! ৫ দিন ধরে যমের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক – এবেলা

মৃত ভেবে কুয়োয় ছুঁড়ে ফেলেছিল খুনিরা! ৫ দিন ধরে যমের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভুবনেশ্বর: চরম নৃশংসতাকেও হার মানাল ওডিশার বরগড় জেলার এক হাড়হিম করা ঘটনা। এক যুবককে পিটিয়ে ‘খুন’ করার পর নির্জন এলাকার একটি গভীর কুয়োয় ফেলে দিয়ে চম্পট দিয়েছিল পাঁচ দুষ্কৃতী। কিন্তু নিয়তির লিখন ছিল অন্যরকম। অন্ধকার কুয়োর ভেতরে একটানা চার দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে, অবশেষে পঞ্চম দিনে অলৌকিকভাকে বেঁচে ফিরলেন সেই যুবক। যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘মিরাকেল’ বললেও কম বলা হয়।

মৃত্যুঞ্জয়ী ওই যুবকের নাম তুলসীরাম বরিহা। তিনি পদ্মপুর সাব-ডিভিশনের পুরেনা গ্রামের বাসিন্দা। গত রবিবার ভোর ৩টে নাগাদ পাঁচজন মিলে তুলসীরামের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। মারধরের জেরে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা ভাবেন তুলসীরাম মারা গেছেন। প্রমাণ লোপাট করতে বিজিপুর ব্লকের সমলাইপদার নার্সারি এলাকার একটি পরিত্যক্ত গভীর কুয়োয় তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়।

অন্ধকার কুয়োয় চার দিন চার রাত:

গভীর কুয়োয় আছড়ে পড়লেও তুলসীরামের প্রাণ ছিল। কিন্তু চারপাশ নির্জন হওয়ায় তাঁর চিৎকার কারও কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি। চার দিন ধরে অন্ন-জলহীন অবস্থায়, ক্ষিদে-তেষ্টায় ছটফট করতে করতেও বাঁচার আশা ছাড়েননি তিনি। কুয়োর ভেতর থেকেই ক্রমাগত বাঁচানোর জন্য চিৎকার করতে থাকেন তুলসীরাম।

পঞ্চম দিনে উদ্ধার কার্য:

গত বৃহস্পতিবার এক গ্রামবাসী ওই পরিত্যক্ত কুয়োর কাছাকাছি কাঠ কুড়োতে গেলে ভেতর থেকে গোঙানি ও কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। উঁকি মেরে যুবককে জীবিত অবস্থায় দেখে তিনি চমকে ওঠেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও দমকলে খবর দেন। উদ্ধারকারী দল এসে দড়ি ও মইয়ের সাহায্যে তুলসীরামকে কুয়ো থেকে জীবিত উদ্ধার করে বিজিপুর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে ভরতি করে।

তিন দিন আগেই দায়ের হয়েছিল নিখোঁজ ডায়েরি:

পুলিশ জানিয়েছে, তুলসীরাম বাড়ি না ফেরায় তিন দিন আগে তাঁর পরিবার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল। যুবক উদ্ধার হতেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সমস্ত প্রতিকূলতাকে হারিয়ে তুলসীরামের এই বেঁচে ফেরা প্রমাণ করে দিল— “রাখে হরি মারে কে!”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *