মৃত স্বামীর কৃত্রিম পা ধরিয়ে দিল খুনি স্ত্রীকে, প্রেমিকের সঙ্গে মিলে নৃশংস হত্যাকাণ্ড – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে সুনীল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ। কেশব পার্কে উদ্ধার হওয়া একটি মস্তকহীন দেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে মৃতের কৃত্রিম পায়ের সূত্র ধরে। এই খুনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে সুনীলের স্ত্রীর প্রেমিকের নাম সামনে এসেছে, যেখানে স্ত্রী নিজেও এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সকালে কেশব পার্কে প্রাতঃভ্রমণকারীরা একটি মুণ্ডহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরি এবং একটি কৃত্রিম পা উদ্ধার হলেও মাথা পাওয়া যায়নি। ফলে পরিচয় শনাক্ত করা পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ পার্কের অদূরে একটি পুকুর থেকে একটি কাটা মাথা উদ্ধার হয়। ডিএনএ টেস্টে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি সুনীলেরই দেহ।
যেভাবে ধরা পড়ল খুনিরা
তদন্তের প্রধান সূত্র ছিল সেই কৃত্রিম পা, যাতে জয়পুরের একটি কো ম্পা নির লোগো ছিল। পুলিশ ওই কো ম্পা নির থেকে হরিয়ানার প্রায় ১৫০ জন দিব্যাঙ্গ ব্যক্তির তালিকা সংগ্রহ করে। তদন্ত করতে করতে পুলিশ জলপথের খোঁজকিপুর গ্রামে পৌঁছায়, যেখানে সুনীল নামের এক যুবক নিখোঁজ ছিলেন। তার স্ত্রী সীতা ৪ জানুয়ারি একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। পরিবারের সদস্যরা কৃত্রিম পা দেখে সুনীলকে শনাক্ত করেন।
পরকীয়া ও খুনের পরিকল্পনা
তদন্তে জানা যায়, সুনীলের স্ত্রী সীতার সঙ্গে মোহিত নামে এক যুবকের এক বছর ধরে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সুনীল মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই সীতাকে মারধর করতেন। সেই ক্ষোভ থেকেই মোহিতের সঙ্গে মিলে সীতা তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
- ষড়যন্ত্র: ২৫ ডিসেম্বর থেকে খুনের ছক কষা হয়।
- হত্যাকাণ্ড: ২৯ ডিসেম্বর মোহিত ও তার দুই বন্ধু (মনজিৎ ও অঙ্কুশ) সুনীলকে ট্রেনযোগে কুরুক্ষেত্রে নিয়ে যায়। সেখানে একটি হোটেলে থাকার পর রাতে কেশব পার্কে নিয়ে গিয়ে তাকে কুপিয়ে খুন করা হয়। পরিচয় গোপন করতে মাথা কেটে সরোবরে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ ইতিমাজ্যে সীতা, প্রেমিক মোহিত এবং মনজিৎকে গ্রেফতার করেছে। চতুর্থ অভিযুক্ত অঙ্কুশের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

