মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দিয়ে ফিরলেন মোজতবা খামেনেই, কিন্তু ক্ষতবিক্ষত শরীরে চরম সংকটে ইরান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে জখম হয়েছিলেন। এই হামলায় তাঁর পিতা আয়াতোল্লা খামেনেইসহ পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারালেও মোজতবা অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, প্রাণে বাঁচলেও তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
শারীরিক আঘাত ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা
হামলার তীব্রতায় মোজতবার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে ঝলসে গিয়েছে, যার ফলে তাঁর স্বাভাবিক কথা বলার ক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর চেহারার বিকৃতি কাটাতে জরুরি ভিত্তিতে প্লাস্টিক সার্জারি প্রয়োজন। এছাড়া আঘাতের গুরুত্ব এতটাই বেশি ছিল যে তাঁর একটি পা বাদ দিতে হয়েছে। তিন দফায় অস্ত্রোপচারের পরেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এখন সেখানে কৃত্রিম পা বা প্রস্থেটিক ব্যবহারের পরিকল্পনা চলছে। তাঁর একটি হাতের অস্ত্রোপচার সফল হলেও তা পুরোপুরি সচল হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।
নিভৃতে সুপ্রিম লিডার ও রাজনৈতিক প্রভাব
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনেইকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মূলত চোটগ্রস্ত চেহারা এবং ভগ্ন কণ্ঠস্বর নিয়ে দেশবাসীর সামনে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি নিজেই। বর্তমানে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি নেই। এই গোপনীয়তা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দেশের সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং শারীরিক অক্ষমতা প্রশাসনিক কাঠামো ও জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনেই।
- তাঁর মুখমণ্ডল ঝলসে যাওয়ায় কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে এবং একটি পা বাদ দিতে হয়েছে।
- শারীরিক অবস্থার কারণে জনসমক্ষে আসা বন্ধ রেখেছেন ইরানের এই নতুন সুপ্রিম লিডার।
- হামলায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তান নিহত হওয়ায় তিনি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত।
