মেডিক্যালের হস্টেলে দাদাগিরি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ! দুর্নীতির অভিশাপ কাটাতে ডিএমই-কে চিঠি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সবকটি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল নিয়ে একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে আসছে। ডাক্তারি পড়া শেষ করার ৫ থেকে ১০ বছর পার হয়ে গেলেও অনেকে অন্যায্যভাবে হস্টেলের ঘর দখল করে রেখেছেন। এমনকি হস্টেলের বেশ কিছু রুম অসামাজিক কার্যকলাপ ও নেশার আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নতুন এবং দুস্থ ছাত্র-ছাত্রীরা বৈধভাবে রুম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই চরম অব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে রাষ্ট্রবাদী চিকিৎসক সংগঠন (এনএমও)। হস্টেলের এই দুর্নীতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্যভবনে ডিরেক্টর অব মেডিক্যাল এডুকেশন (ডিএমই) ডা: ইন্দ্রজিৎ সাহার সঙ্গে দেখা করেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
এনএমও-র সম্পাদক ডা: অর্ণব পাল অভিযোগ করে জানান, মেডিক্যাল হস্টেলগুলোতে এমনিতেই ছাত্র-ছাত্রীদের তুলনায় বেডের সংখ্যা কম, তার উপর চলছে অবৈধ দখলদারি। নিয়ম অনুযায়ী কলেজ কর্তৃপক্ষ নতুন পড়ুয়াদের রুম বরাদ্দ করলেও, সেখানে গিয়ে দেখা যায় অন্য কেউ দখল করে বসে আছে। বাধ্য হয়ে নতুনদের তথাকথিত ‘দাদা’ বা ‘দিদি’দের শরণাপন্ন হতে হয়, যেখান থেকে হস্টেল সংস্কৃতির দুর্নীতি শুরু হয়।
এর পাশাপাশি হস্টেলগুলির বাথরুম ও টয়লেটের নোংরা ও চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাব এবং নিয়মিত দেখাশোনা না করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের মূল দাবিগুলি হলো:
- হস্টেলের রুম অ্যালটমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে কলেজ প্রশাসনের অধীনে রাখতে হবে, এতে যেন কোনো জ্যেষ্ঠ ছাত্রের হস্তক্ষেপ না থাকে।
- রুম বণ্টনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
- হস্টেলের বাথরুম ও শৌচাগার নিয়মিত পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে হবে।
ডিএমই-র পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, নতুন শিক্ষাবর্ষের পড়ুয়ারা হস্টেলে ওঠার আগেই এই সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, স্বাস্থ্য দপ্তরের এই আশ্বাসের পর হস্টেলের পরিবেশ ও অনিয়ম কতটা বদলায়।
