‘যথেষ্ট হয়েছে!’ অভিষেকের বিরুদ্ধে পরপর FIR-এ ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট, ব্ল্যাঙ্কেট রক্ষাকবচের ইঙ্গিত – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
September 8, 202612:33 pm
কলকাতা: ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর (FIR) দায়েরের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে!” ভবিষ্যতে অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন কোনো এফআইআর দায়েরের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম বা ‘ব্ল্যাঙ্কেট রক্ষাকবচ’ দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে হাইকোর্ট।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্ন: ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে ৩টি এফআইআর দায়ের হয়, যা খারিজের দাবিতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। শুনানিতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন—
- তদন্ত না করেই কীভাবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগে নাম যুক্ত করা হচ্ছে?
- যে অভিযোগগুলোতে আবেদনকারীর সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই, সেখানে কিসের ভিত্তিতে মামলা হচ্ছে?
- রাজ্যের উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন— “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজে ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছিলেন? এতদিন পর কেন এই অভিযোগ?”
আদালতে যুক্তিতর্ক:
- অভিষেকের আইনজীবীর বক্তব্য: বর্ষীয়ান আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান, অভিষেকের বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৭টিই করেছেন নির্বাচনে তাঁর কাছে দু’বার পরাজিত বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। ফলে এর পেছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি স্পষ্ট।
- রাজ্যের বক্তব্য: রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, ভুয়ো ওষুধ সংক্রান্ত এই মামলায় অভিযোগকারী একজন ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হিসেবে কাজ করেছেন।
- অভিযোগকারীর আইনজীবীর বক্তব্য: অভিজিৎ দাসের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, কোনো অনুমতি ছাড়াই এই শিবির চালানো হচ্ছিল এবং উদ্যোক্তা হিসেবে অভিষেকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ: আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে চায় না। তদন্ত স্বাভাবিক নিয়মে চলবে এবং চার্জশিটও জমা দেওয়া যাবে। তবে এই মুহূর্তে অভিষেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো প্রয়োজন নেই।
আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আগামী ২৩ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির আগে রাজ্যকে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
