‘যন্তর মন্তরে ছাত্রের চেয়ে পাংচারওলা বেশি ছিল!’ নিট আন্দোলন নিয়ে বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরির মন্তব্যে তোলপাড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে তপ্ত রাজধানী দিল্লি। আন্দোলনের উত্তাপে ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও তার রেশ এখনও কাটেনি। এর মাঝেই আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের পরিচয় ও চরিত্র নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের আগুন উস্কে দিলেন বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরি। রবিবার এক বিতর্কিত বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, “যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের চেয়ে পাংচারওলাদের ভিড়ই বেশি ছিল।”
বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রশ্নফাঁসের আন্দোলনের নেপথ্যে প্রকৃত পড়ুয়ারা ছিল না, বরং তাদের আড়ালে দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত চালিয়েছে কিছু সমাজবিরোধী উপাদান।
ঠিক কী বলেছেন বিজেপি সাংসদ?
রমেশ বিধুরি সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন,
“যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের চেয়ে পাংচারওলারা বেশি ছিল। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কাদের কথা বলতে চাইছি! কোনো প্রকৃত ছাত্র বা ছাত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে পারে না। যারা মোদীজিকে গালি দিয়েছে, তারা হয় পাংচারওলাদের ছেলেমেয়ে, না হয় তাদের পরিবারের সদস্য।”
এখানেই না থেমে সাংসদ আরও অভিযোগ করেন যে, নিট আন্দোলনের নামে কিছু সমাজবিরোধী গোষ্ঠী যন্তর মন্তরে জমায়েত হয়ে দেশের তরুণদের ভুল বুঝিয়ে সংসদে হামলার ষড়যন্ত্র করছিল এবং দেশজুড়ে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল। তাঁর মতে, গত ১২ বছরে দেশে কী উন্নয়ন হয়েছে এবং তার আগের ১২ বছরের স্থবিরতা কেমন ছিল—সে বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরে যুবসমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
কংগ্রেসের তোপ ও বিধুরির ‘বিতর্কিত’ অতীত:
রমেশ বিধুরির এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, ন্যায্য দাবির ভিত্তিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের অপমান করে আসল সমস্যা থেকে দেশবাসীর নজর ঘোরাতে চাইছে শাসক দল। প্রশ্নফাঁসের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ‘পাংচারওলা’ বলে কটাক্ষ করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত মন্তব্য করা রমেশ বিধুরির জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও কৃষক আন্দোলনের সময়ে আন্দোলনকারীদের “টাকার বিনিময়ে আসা লোক” বলে কটাক্ষ করেছিলেন এবং কংগ্রেসকে ‘শকুনি মামা’ আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি ২০২৩ সালে দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে বহুজন সমাজ পার্টি (BSP)-র সাংসদ দানিশ আলির বিরুদ্ধে চরম আপত্তিকর ও কুরুচিকর মন্তব্য করার কারণে নিজ দলের তরফেই শোকজ নোটিশ পেয়েছিলেন এই বিজেপি সাংসদ।
