যুদ্ধ ভুলে গুরুর সামনে মাথা নত করলেন পুতিন, ভাইরাল ভিডিওতে ধরা পড়ল এক অন্য রূপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মাঝে বিশ্বজুড়ে যখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই সামনে এল তার এক ভিন্নধর্মী ও আবেগঘন রূপ। সম্প্রতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়ের স্মরণে আয়োজিত ‘ভিক্ট্রি ডে’ প্যারেড উপলক্ষে নিজের ছোটবেলার প্রিয় জার্মান শিক্ষিকা ভেরা গুরেভিচকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানান পুতিন। মস্কোতে সেই শিক্ষিকার আগমনে প্রোটোকল ভেঙে নিজেই গাড়ি চালিয়ে তাকে ক্রেমলিনে নিয়ে যাওয়ার এক বিরল দৃশ্য বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শিকড়ের টানে অনন্য শ্রদ্ধা
১৯৫২ সালে তৎকালীন লেনিনগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা পুতিন তার শৈশবে এই ভেরা গুরেভিচের কাছেই জার্মান ভাষা শিখেছিলেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে প্রবীণ শিক্ষিকাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। শুধু তাই নয়, প্রিয় শিক্ষিকা এবং তার পরিবারকে আতিথেয়তা জানাতে তিনি নিজেই ‘অরাস’ এসইউভি চালিয়ে তাদের নৈশভোজের জন্য নিয়ে যান। বিশ্বনেতার এই ‘মাতৃসম’ শ্রদ্ধাবোধ দেখে উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
🚨⚡️ President Putin got behind the wheel of the Aurus SUV for the first time to personally escort his former German language teacher Vera Gurevich
The powerful scene of her motherly embrace and kiss for the world leader left her daughter in tears 🇷🇺❤️ pic.twitter.com/CI88Q7F1c5
— RussiaNews 🇷🇺 (@mog_russEN) May 11, 2026
সাফল্যের নেপথ্যে ভাষাজ্ঞান ও প্রভাব
পুতিনের জীবনে জার্মান ভাষার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। শৈশবে শেখা এই ভাষা তার কর্মজীবনে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছিল। তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি-তে যোগ দেওয়ার পর জার্মান ভাষায় পারদর্শিতার কারণেই তাকে পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সেখানে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে তার অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক জীবনেও তাকে সমৃদ্ধ করেছে। ২০০১ সালে জার্মানির পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগে জার্মান ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে তিনি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালীন এই সময়ে পুতিনের এমন কোমল ভাবমূর্তি প্রচার বিশ্ব রাজনীতিতে তার একটি মানবিক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের মানুষের কাছে তার ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে।
