যুদ্ধের ধাক্কায় আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, আর্থিক চাপ স্বীকার করে তিনটি বিষয়ে নজরদারির বার্তা অর্থমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জেরে দেশে তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ এবং অকল্পনীয় মূল্যবৃদ্ধির কথা স্বীকার করে নিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় কেবল জ্বালানি তেল নয়, মাত্রাছাড়া হারে বাড়ছে সারের দামও। সোমবার মুম্বইয়ে ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন ব্যাঙ্কের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে ধরে রাখতে তিনটি বিশেষ বিষয়ের উপর ভারত নজর রাখছে বলে তিনি সাফ জানিয়েছেন।
তিনটি ‘এফ’ ফর্মুলায় নজর কেন্দ্রের
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভারতকে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর কড়া নজরদারি চালাতে হচ্ছে। তিনি এটিকে তিনটি ‘এফ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা যথাক্রমে ফুয়েল (জ্বালানি), ফার্টিলাইসার (সার) এবং ফোরেক্স (বিদেশিমুদ্রা)। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই মুহূর্তে শুধু অশোধিত তেলের দাম বাড়াই ভারতের একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়, বরং সারের দাম যেভাবে অকল্পনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে, তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে আমজনতার ভাতের থালায়। এর পাশাপাশি সোনার আকাশছোঁয়া দাম ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের উপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
সংকটের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই তীব্র আর্থিক সংকটের মূল কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন নির্মলা সীতারমণ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে তিন ধাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্র, যার ফলে গত এগারো দিনে পেট্রলের দাম বেড়েছে প্রায় ৭ টাকা ৩৮ পয়সা। অর্থমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট শুধু কোনো কূটনৈতিক বিষয় নয়, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনে। এর ফলে আগামী দিনে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব, জাহাজের খরচ বৃদ্ধি, কাঁচামালের ঘাটতি, মূলধনের উপর চাপ এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া বিশেষ পরামর্শকে সমর্থন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আমদানি কমানো, বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখা এবং আগামী এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তা বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও বিরোধীদের দাবি, অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে আর্থিক চাপের কথা স্বীকার করলেও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পতনের আসল চিত্রটি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
