যুদ্ধের ধাক্কায় টালমাটাল অর্থনীতি! এবার কি বড় সিদ্ধান্ত নেবে মোদি সরকার? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবার বড়সড় ধাক্কা দিল ভারতের অর্থনীতিতে, যার জেরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট। ডলারের বিপরীতে টাকার দামের রেকর্ড পতনে লাফিয়ে বাড়ছে আমদানির খরচ, যা সামগ্রিক বাজারকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। এমন এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে বিদেশ সফর থেকে ফিরেই মন্ত্রিসভাকে নিয়ে জরুরি পর্যালোচনায় বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরকারের এক যুগ পূর্তির ঠিক মুখে এসে এই আর্থিক বিপর্যয় মোদি প্রশাসনের নীতি নির্ধারণী দক্ষতার সামনে এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিল।
সুদ বৃদ্ধির চড়া মাশুল এবং ধুঁকতে থাকা লগ্নি
সংকট সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) পুনরায় সুদের হার বাড়ানোর পথেই হাঁটতে চলেছে। ডলারের জোগান বাড়িয়ে টাকার পতন রুখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, ঘরোয়া অর্থনীতির জন্য তা মারাত্মক হিতে বিপরীত হতে পারে। সুদের হার বাড়লে বাজার থেকে ঋণ নেওয়া বা পুঁজি সংগ্রহের খরচ একধাক্কায় অনেক বেড়ে যাবে। এর ফলে, নতুন শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে লগ্নিকারীরা চরম নিরুৎসাহী হবেন। এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে দেশে বেসরকারি পুঁজি বিনিয়োগ এবং বড় কলকারখানা তৈরির গতি তলানিতে ঠেকেছে। নতুন করে পুঁজি মহার্ঘ হলে সেই মন্দা আরও তীব্র হবে, যা সরাসরি দেশের উৎপাদন ক্ষেত্র ও কর্মসংস্থানে বড় আঘাত হানবে।
বৃদ্ধির হারে টান ও মূল্যস্ফীতির জোড়াফলা
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার (জিডিপি) উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে চলেছে। একদিকে বেকারি ও বেকারত্বের হার চরমে, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। এই জোড়াফলার মধ্যে আর্থিক বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার অর্থ হলো দেশ এক গভীর মন্দার আবর্তে তলিয়ে যাওয়া। মনমোহন আমলের সংস্কারের ওপর ভরসা করে এতদিন চললেও, বর্তমানের এই জটিল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কোনো চমকপ্রদ ও অভিনব আর্থিক নীতি মোদি সরকার আনতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।
