যুদ্ধের প্রভাব কমাতে মোদীর ৫ মন্ত্র, ১ বছর সোনা কেনা বন্ধ ও ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর ডাক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে তৈরি হওয়া সংকটের প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে একগুচ্ছ নতুন পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তেলেঙ্গানায় প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই বিশেষ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর মতে, জ্বালানি তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, স্বর্ণ ক্রয় স্থগিত রাখা এবং পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) সংস্কৃতিতে ফিরে আসা বর্তমানে সময়ের দাবি এবং দেশপ্রেমের পরিচায়ক।
আমদানি নির্ভরতা হ্রাস ও সাশ্রয়ের কৌশল
প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস এবং সারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশচুম্বী। এই বিশাল ব্যয়ের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর না চাপিয়ে সরকার নিজেই বহন করছে। তবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে তিনি জ্বালানি ব্যবহারে অত্যন্ত সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মোদী বলেন, “বিদেশে পেট্রো-পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা একটি বড় জাতীয় দায়িত্ব।” তিনি নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো ব্যবহার, প্রয়োজনে কার-পুলিং করা এবং পণ্য পরিবহনে রেলওয়ের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিলাসিতা ত্যাগ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মোদী মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতি আগামী এক বছর স্বর্ণ কেনা এবং বিদেশে ভ্রমণ বা বিয়ে করার পরিকল্পনা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সোনা আমদানিতে দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, যা বর্তমান সংকটের সময়ে কমিয়ে আনা জরুরি। পাশাপাশি করোনা আমলের মতো আবারও অনলাইন মিটিং, ভিডিও কনফারেন্স এবং বাড়ি থেকে কাজের (WFH) সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিগুলো কেবল সময় বাঁচায় না, বরং জ্বালানি খরচ কমিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিকল্প শক্তির পথে ভারত
বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘এনার্জি সিকিউরিটি’ বা জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার গত কয়েক বছর ধরে সৌর শক্তি এবং পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের মতো বিকল্প জ্বালানির ওপর ব্যাপক বিনিয়োগ করছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ভারত তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। কৃষকদের স্বস্তি দিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম ৩,০০০ টাকা হলেও ভারতে তা ৩০০ টাকারও কম দামে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সামগ্রিক দাওয়াইয়ের লক্ষ্য হলো আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং বৈশ্বিক যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশের সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখা।
