যে ভবনে ঘটেছিল অভয়াকাণ্ড, সেই আরজি করে এবার মদের আসরের ভাইরাল ভিডিয়োয় তীব্র তোলপাড়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে ঘিরে ফের এক নজিরবিহীন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। যে ইমার্জেন্সি বা জরুরি বিভাগের ভবনে ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট কর্তব্যরত এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল, সেই ভবনের ভেতরেই এবার মদ্যপান ও পার্টির আসর বসানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের ভেতরেই জন্মদিনের পার্টি ও মদের আসর
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি বা জরুরি বিভাগের ভবনের পাঁচতলার একটি ঘরে কয়েকজন ব্যক্তি বসে আড্ডা দিচ্ছেন। তাঁদের সামনের টেবিলে প্লাস্টিকের গ্লাসে রঙিন পানীয় এবং খাবারের প্যাকেট সাজানো রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জরুরি বিভাগের ওপরের তলায় অস্থিশল্য বিভাগের একটি কক্ষে এই আসর বসেছিল।
অভিযোগের তির হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের সুপারভাইজার তথা বর্তমান ফেসিলিটি ম্যানেজার রঞ্জিত গোঁসাইয়ের দিকে। জানা গিয়েছে, নিজের পরিচিত কিছু মানুষকে নিয়ে তিনি সেখানে মদ্যপান ও ভোজের আয়োজন করেছিলেন। এমনকি ভিডিয়োতে নিজেকে রাজ্যের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। তবে অভিযুক্ত রঞ্জিত গোঁসাইয়ের দাবি, এটি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে একটি ছোট অনুষ্ঠান ছিল। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি জানান, গ্লাসে কী ছিল বা অনুষ্ঠানটি ঠিক কোথায় হয়েছিল তা এখন তাঁর মনে নেই।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের মেডিক্যাল সুপার তথা উপাধ্যক্ষ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কর্মী ঘটনাটিকে কয়েক বছর আগের বলে দাবি করলেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়েছে। তৎক্ষণাৎ ওই কর্মীকে ফেসিলিটি ম্যানেজারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ইউরোলজি বিভাগে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অতীতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক অপরাধের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক শিথিলতাকেই ফের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে চিকিৎসকদের কর্মস্থলের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিটিও নতুন করে গতি পেতে পারে।
