‘যে মা মানুষ করল, অসুস্থ হতেই তাঁকে ছাড়ল!’ বিদ্রোহীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ৫ বার্তায় বিঁধলেন মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূলের দুর্দিনে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের প্রতি চূড়ান্ত অভিমান ও হুঁশিয়ারি প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক, সাংসদ ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্য করে নরমে-গরমে বার্তা দিলেন। দলের ভিত যে নিচুতলার কর্মীদের আত্মত্যাগে তৈরি, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি এদিন একগুচ্ছ কড়া বার্তা দিয়েছেন।
মমতার সেই ৫ প্রধান বার্তা:
১. ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ বিচার: যে মা (দল) সারা জীবন তাঁদের লালন-পালন করল, সেই মা অসুস্থ হতেই তাঁরা স্বার্থপরের মতো ছেড়ে চলে গেলেন। মমতা স্পষ্ট জানান, যারা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাঁচাতে বা আইনি মামলার ভয়ে দল ছেড়েছেন, তাঁদের এই কাজ বিশ্বাসঘাতকতা। এদের ক্ষমা নেই।
২. ‘ঘর কা না ঘাট কা’ অবস্থা: যারা আজ নিজেদের বাঁচাতে বিরোধী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। মমতার সতর্কবাণী— “যাঁরা ভাবছেন পালিয়ে বাঁচবেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত কোথাও জায়গা পাবেন না। তাঁদের এমন অবস্থা হবে যে, ঘরেও ঠাঁই হবে না, ঘাটও জুটবে না।”
৩. ফেরার সুযোগ: দলত্যাগী নেতাদের মধ্যে যাঁদের এখনও শুভবুদ্ধি অবশিষ্ট আছে, তাঁদের জন্য দরজা খোলা। মমতা আহ্বান জানিয়েছেন, সময় থাকতেই অনুশোচনা করে তাঁরা যেন দলে ফিরে আসেন।
৪. কর্মীদেরই আসল মালিকানা: নেতা বা বিধায়ক হওয়ার আগে তাঁদের মনে রাখা উচিত, এই দলের প্রকৃত ভিত হলো নিচুতলার কর্মী, ঘাম ও রক্ত। কর্মীদের বিপদে ফেলে যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছেন, তাদের কাছে আগামিদিনে জনগণই হিসাব চাইবে।
৫. ঐক্যের ডাক ও ২১ জুলাই: রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রশাসনের অপব্যবহার করছে বলে মমতার অভিযোগ। এই প্রতিকূল সময়ে তৃণমূল কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সব বাধা সত্ত্বেও আসন্ন ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালন করতে হবে। মমতার কথায়, “পাঁচজন কর্মী এলেও এই সভা হবে, কারণ এটি আমাদের সংগ্রামের প্রতীক।”
বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের ভূমিকা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
