‘যেখানেই হাত দিচ্ছি পচা-দুর্গন্ধ’, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে জেল বানানোর হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

‘যেখানেই হাত দিচ্ছি পচা-দুর্গন্ধ’, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে জেল বানানোর হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

নিজস্ব প্রতিবেদন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে ফের সুর চড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকারের প্রতিটি কাজেই দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট। এই দুর্নীতির বহর এতই বেশি যে, পরিস্থিতি সামলাতে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকেও জেল বানাতে হতে পারে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।

দুর্নীতির খতিয়ান ও মুখ্যমন্ত্রীর তোপ:

পূর্বতন সরকারের আমলে চলা বিভিন্ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু বলেন, “যেখানেই হাত দেওয়া হচ্ছে, সেখান থেকেই পচা-দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে।” ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, তাঁদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৭ লক্ষ এমন নাম চিহ্নিত করা হয়েছে যাঁদের ভোটার তালিকায় নামই নেই। এছাড়াও ৩ লক্ষ পুরুষ এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন, যা এক ‘ভয়ঙ্কর দুর্নীতি’। তাঁর কথায়, “কেউ নবান্নে এলে তাঁদের সময় নিয়ে চা খাওয়াব, কিন্তু এই দুর্নীতির হিসাব দিতেই হবে।”

সংগঠনের প্রতি বার্তা:

দলের কর্মীদের উদ্দ্যেশে শুভেন্দু বার্তা দেন, ক্ষমতায় আসার পর যেন কোনোভাবেই কর্মীদের মধ্যে দম্ভ তৈরি না হয়। তিনি বলেন, “আমি নয়, আমরা—এই মন্ত্রেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের অনেক প্রত্যাশা আমাদের নিয়ে।” সরকারি প্রকল্পগুলো যাতে প্রকৃত উপভোক্তার কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দলীয় কর্মীদেরই নিতে হবে বলে জানান তিনি।

এক মাসে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ:

সরকারের প্রথম এক মাসের কাজের ফিরিস্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কয়েকটি বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান:

  • শহিদ পরিবারকে সাহায্য: বিজেপির যে ৩১৫ জন কর্মী ‘আত্মবলিদান’ দিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ও পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
  • সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ: বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। ইতিমধ্যেই ৪,৮০০ জন অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং হোল্ডিং সেন্টারে থাকা ৮৩৬ জনকে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
  • জনগণনা: আগামী ১ অগস্ট থেকে রাজ্যে জনগণনার কাজ শুরু হবে। ১৫ অগস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা এবং ১৬ অগস্ট থেকে সদস্য সংখ্যার গণনা চলবে। এর ভিত্তিতেই পরবর্তীকালে ডিলিমিটেশন ও জাতি জনগণনার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

একদিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রেখেই রাজ্য সরকার আগামী দিনে এগোবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *