রক্ত পাচার থেকে ‘উপহারের লোভ’: ১২ ব্লাড ব্যাংকে আদালতের কোপ, রাজ্যকে চরম বার্তা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উপহারের বিনিময়ে রক্তদান, বাড়তি দাম আদায় এবং রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদকে অন্ধাকারে রেখে ভিন রাজ্যে রক্ত বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলকাতার শহরতলিসহ রাজ্যের ১২টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের রক্তদান শিবির (ক্যাম্প) করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।
গত ১ আগস্ট থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থ্যালাসেমিয়া ও সংকটজনক রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন—এই দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয় একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক।
হাইকোর্টের কড়া অবস্থান
বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চে মামলাটি উঠলে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে চলমান তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চায়।
- রিপোর্ট পেশের নির্দেশ: আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে অভিযুক্ত ব্লাড ব্যাংকগুলির বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্যকে।
- পরবর্তী শুনানি: মামলাটির পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৯ আগস্ট।
আদালতের বার্তা: স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ১২টি ব্লাড ব্যাংক বাইরে কোনো ক্যাম্প করতে পারবে না। তবে সরকারি নিয়ম মেনে নিজেদের নিজস্ব হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রশিক্ষিত কর্মীদের দ্বারা রক্ত সংগ্রহ চালু রাখা যাবে।
যেসব গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে:
স্বাস্থ্য দপ্তর বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে অভিযান চালিয়ে প্রধানত তিনটি দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে:
- বেআইনি পাচার: প্লাজমা ও অন্যান্য জরুরি রক্তের উপাদান বেআইনিভাবে ভিন রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে।
- অতিরিক্ত দাম: নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি দামে রক্ত বিক্রি করা হচ্ছে।
- নিয়ম লঙ্ঘন: রক্তদান শিবিরের সরকারি নির্দেশিকা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দুর্গাপুরে চাঞ্চল্যকর কাণ্ড
এরই মধ্যে দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের একটি স্কুলে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রদের টাকার লোভ দেখিয়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা দুর্গাপুর থানায় এফআইআর দায়ের করার পর এই দুর্নীতির চক্রটি আরও স্পষ্ট হয়, যা দেখে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর।
