রণংদেহি মেজাজে মমতা: রাজপথ থেকে আদালত, জোড়াফলায় বিজেপিকে বিঁধতে প্রস্তুত তৃণমূল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রবীন্দ্রজয়ন্তীর আবহে ‘আমাদের যাত্রা হল শুরু’ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাজপথে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার কবিপ্রণামের মাধ্যমেই দলের এই প্রস্তাবিত ‘নৈতিক আন্দোলনের’ সূচনা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে অত্যাচারিত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই লড়াইয়ে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে সেনাপতি হিসেবে থাকছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোট লুঠের অভিযোগে রাজপথে আন্দোলন
তৃণমূলের দাবি, এবারের নির্বাচনী ফলাফল প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন নয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি যোগসাজশ করে পরিকল্পিতভাবে ভোট লুঠ করেছে। বিশেষ করে কয়েক লক্ষ বৈধ ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং বাছাই করা ইভিএমে কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জোড়াফুল শিবির। শাসক দলের দাবি, গণনার দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে এজেন্টদের বের করে দিয়ে অন্তত ১০০টি আসনে জিতেছে বিজেপি। তৃণমূল ও বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধানের চেয়েও কারচুপির মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা ভোটের সংখ্যা বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে।
আইনি লড়াই ও আগামীর কৌশল
রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি পথেও লড়াই চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে সব অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ করে আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করছেন। জনমানসে ইভিএম এবং গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তাকে হাতিয়ার করেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে চায় দল। এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে একদিকে ঘরছাড়াদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে নির্বাচনী অনিয়মকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরাই তৃণমূলের মূল লক্ষ্য।
এক ঝলকে
- রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের মাধ্যমে রাজপথে তৃণমূলের নতুন ‘নৈতিক আন্দোলনের’ সূচনা।
- ইভিএম কারচুপি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও গণনায় সন্ত্রাসের অভিযোগ।
- ১০০টির বেশি আসনে কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি জিতেছে বলে তৃণমূলের দাবি।
- ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সহায়তা এবং আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই সমান্তরালভাবে চলবে।
