রণক্ষেত্র আফগানিস্তান সীমান্ত, ১৯টি পাক চৌকি দখল করে ৫৫ সেনাকে খতম করল তালিবান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমান্ত এখন আক্ষরিক অর্থেই এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা এবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। তালিবান যোদ্ধাদের অতর্কিত ও বিধ্বংসী হামলায় কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের সীমান্ত প্রতিরক্ষা বলয়। আফগান বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা লড়াইয়ের ময়দানে অত্যন্ত কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে এবং ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চৌকি নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু পাক সেনাকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক করেছে তালিবান।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তানও চরম আগ্রাসী মনোভাব গ্রহণ করেছে। পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ আফগান তালিবানের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ওপেন ওয়ার’ বা প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের অখণ্ডতা ও শান্তির প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। ইসলামাবাদের নির্দেশে পাক বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কান্দাহারে ব্যাপক বিমান হামলা বা এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, তারা তালিবানের একাধিক গোপন আস্তানা ও সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে যুদ্ধের ময়দান থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, আকাশপথেও কড়া টক্কর দিচ্ছে আফগানিস্তান। ‘টোলো নিউজ’-এর প্রতিবেদন বলছে, আফগান আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের সময় পাকিস্তানের একটি অত্যাধুনিক লড়াকু বিমানকে গুলি করে নামিয়েছে তালিবান বাহিনী। কাবুল জুড়ে এখন শুধু যুদ্ধবিমানের গর্জন আর মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ। তালিবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের এই আগ্রাসনের উপযুক্ত এবং দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এই সংঘাত এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যার আঁচ আছড়ে পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও।

