রণক্ষেত্র জেএনইউ ক্যাম্পাস! ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের ওপর চড়াও পড়ুয়ারা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
জেএনইউ অর্থাৎ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় মানেই প্রতিবাদের আঁতুড়ঘর। তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনা ছাপিয়ে গেল বিগত কয়েক বছরের উত্তেজনাকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক পর্যন্ত ঘোষিত ‘লং মার্চ’ রুখতে গিয়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। দফায় দফায় সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা, এমনকি কামড়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন অভিযোগে এখন উত্তপ্ত রাজধানী। ঘটনায় দুই পক্ষের বহু আহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৫১ জন পড়ুয়াকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
যে কারণে শুরু এই সংঘাত
বিক্ষোভের মূলে ছিল একাধিক দাবি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি-র নতুন নিয়ম কার্যকর করা, ছাত্র সংসদের পদাধিকারীদের বহিষ্কার এবং প্রস্তাবিত ‘রোহিত আইন’ নিয়ে উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুদি পণ্ডিতের বিতর্কিত মন্তব্য। এই সমস্ত ইস্যুকে হাতিয়ার করেই জেএনইউ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন শিক্ষা মন্ত্রক অভিযানের ডাক দিয়েছিল। পড়ুয়াদের অভিযোগ, উপাচার্য গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করছেন এবং ছাত্র স্বার্থবিরোধী মন্তব্য করছেন।
পুলিশের দাবি বনাম পড়ুয়াদের পাল্টা অভিযোগ
দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির ডিসিপি অমিত গোয়েল জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে মিছিল নিয়ে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন শয়ে শয়ে পড়ুয়া। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। পুলিশের দাবি, উত্তেজিত পড়ুয়ারা ব্যারিকেড ভেঙে তাদের ওপর হামলা চালায়। এমনকি এক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারসহ প্রায় ৩০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কিছু পড়ুয়া পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন এবং কয়েকজনকে কামড়েও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, পড়ুয়ারা পুলিশের এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালন করছিলেন, কিন্তু পুলিশ বিনা প্ররোচনায় ‘অতিরিক্ত শক্তি প্রদর্শন’ করেছে। মিছিলে থাকা ছাত্রীদের ওপরও লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। ছাত্র সংসদের বর্তমান সভাপতি অদিতি মিশ্র এবং প্রাক্তন সভাপতি নীতিশ কুমারসহ অনেককেই পুলিশ টেনে-হিঁচড়ে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
শিক্ষক সংগঠনের সরব হওয়া ও প্রশাসনের কড়া অবস্থান
জেএনইউ-র শিক্ষক সংগঠনও এই ঘটনায় সরব হয়েছে। তাদের দাবি, পড়ুয়াদের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে এবং পুলিশের হামলায় বহু সাধারণ ছাত্রছাত্রী রক্তাক্ত হয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানে অনড়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং ভাঙচুরের দায়ে নিয়ম মেনেই কিছু পড়ুয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বসন্তকুঞ্জ (উত্তর) থানায় এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যাম্পাসের বাইরে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির এই ছাত্র বিক্ষোভের আঁচ এখন কতটা ছড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের শিক্ষা মহল।

